পানি কমছে, ভেসে উঠছে ধ্বংসযজ্ঞ: দুর্গত এলাকায় সর্বস্ব হারানো মানুষের টিকে থাকার নতুন লড়াই

0
বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিধ্বস্ত মাটির ঘরের ধ্বংসস্তূপের সামনে সন্তানসহ অসহায় নারী।। ছবি: সংগৃহীত
পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির ধাক্কা কাটিয়ে দেশের বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সাথে সাথে বন্যাকবলিত হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও মৌলভীবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন ভেসে উঠছে ধ্বংসের ক্ষত।
মাথা গোঁজার একমাত্র কাঁচা বা মাটির ঘরটি হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন লাখো মানুষ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সোমবারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বন্যাকবলিত জেলাগুলোর ১ হাজার ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ৩৮ হাজার ৪২২ জন মানুষ অবস্থান করছেন। এরই মধ্যে দেশের আরও ৯টি জেলায় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণকেন্দ্র। নতুন করে বন্যাকবলিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলো হলো— সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম।

সরকারের পক্ষ থেকে ৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের জন্য ৮ হাজার ৯৫০ টন চাল এবং ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বন্যাকবলিত ৭ জেলার জন্য রয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ও ৩ হাজার ২৫০ টন চাল।

সরেজমিনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও কক্সবাজারের চকরিয়াসহ দুর্গত পার্বত্য এলাকাগুলো ঘুরে চোখে পড়ে সর্বস্ব হারানো মানুষের হাহাকার। হবিগঞ্জের সুঘর গ্রামের রানী দেব কিংবা বাঁশখালীর আশা খাতুনের মতো হাজারো নারীর ঘর মাটির সাথে মিশে গেছে। ঘরবাড়ি ও আঙিনাজুড়ে জমে থাকা পুরু কাদার আস্তরণ সরাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাসিন্দারা।

রাঙামাটিতে পানি কমলেও এখনো ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৭৩৯ জন মানুষ অবস্থান করছেন এবং অতিবৃষ্টির জেরে জেলায় ১৩৫টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা দুর্গত মানুষের জরুরি পুর্নবাসন ও সমন্বয়ের জন্য সংসদ অধিবেশন মুলতবি রেখে সব দলের সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পাঠানোর পাশাপাশি একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠনের জোরালো তাগিদ দিয়েছেন।