নেপালে হিমবাহধসে সুড়ঙ্গে আটকা পড়ার ১০ দিন পর চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার

0
নেপালের আপার ত্রিশূলী–১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে ১০ দিন পর এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধারের করে সেনাবাহিনী।। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে প্রলয়ঙ্করি হিমবাহধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ ঢল ও কাদা-ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকা পড়ার ১০ দিনের মাথায় আজ শনিবার এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দেশটির আপার ত্রিশূলী–১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে তাঁকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করে নেপাল সেনাবাহিনী। সেনাসূত্রে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত এক বিবৃতিতে জানান, “এইমাত্র আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।” আশার আলো জ্বালিয়ে গত দু’দিনে ওই অঞ্চল থেকে এ নিয়ে মোট তিনজনকে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলো।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকালে ত্রিশূলী–৩–এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয় শাহ ও কবির মহারাজন নামে দুই নেপালি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাঁদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। তবে দ্বিতীয় ব্যক্তি কবির মহারাজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে রাজধানী কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। অপর উদ্ধারপ্রাপ্ত সঞ্জয় শাহকেও একই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের একদম ভেতর থেকে চীনা নাগরিককে উদ্ধার করে আনা হচ্ছে।। ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েকদিনের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ বলেন, “যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশা আছে! ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলেই উদ্ধার অভিযান চলছে। সবার প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা অব্যাহত থাকুক। আমরা আশা হারাইনি।”

উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তের একটি পর্বতমালায় বিশাল হিমবাহ ও পাথরধসের পর কাদা ও ভারী ধ্বংসাবশেষ তীব্র বেগে নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নদীসংলগ্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে কর্মরত শত শত শ্রমিক ও কর্মী নিখোঁজ হন।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৩৪৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৫ হাজার ৮৩ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ধসের প্রভাবে সীমান্ত সংলগ্ন তিব্বত অংশে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুই দেশ মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৫ জনে এবং নিখোঁজের সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজার অতিক্রম করেছে।