দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা সরকারের গভর্নেন্সের চিত্র: মির্জা ফখরুল

0

লোকসমাজ ডেস্ক॥ ঢাকায় দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ‘সরকারের গভর্নেন্সের চিত্র’ ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার ফার্মগেটে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাবেক এমপি রুমানা মাহমুদকে দেখার পর সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘চারদিকে তাকালে চোর-চুরি, চারদিকে তাকালে গুন্ডামি, চারদিকে তাকালে মারামারি। তারা এত কিছু করছেন, গুলি করে একজন দিনমজুরের নাড়িভুড়ি বের করে দিতে পারছেন। আর আপনাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) সামনে দিয়ে জঙ্গি উধাও হয়ে যাচ্ছে। বুঝতেই পারেন, তাদের (সরকার) গভর্নেন্স। কোন জায়গায় তারা গভার্নেন্সকে নিয়ে এসেছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশ একটা গভীর সংকটে পড়ে গেছে, একেবারে খাদে এসে গেছে। একদিকে অর্থনৈতিক সংকট, আরেক দিকে রাজনৈতিক সংকট। এসবের সমাধান না করলে এদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও মনে করি, এই সবে সন্ত্রাস, অত্যাচার-নির্যাতন বাদ দিয়ে তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং দেশে একটা সত্যিকার অর্থে অন্তবর্তীকালীন কেয়ার টেকার সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। কোনও মতেই সমস্যার সমাধান করার সম্ভাবনা আমরা দেখি না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশ ও জাতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে বলে আমি মনে করি। এটা একটা ক্রিটিক্যাল টাইম মোমেন্ট। যদি নির্বাচন ঠিক মতো না হয়, নির্বাচনে যদি জনপ্রতিনিধি সঠিকভাবে নির্বাচিত না হয়, সে দেশ কীভাবে চলবে?’
ফখরুল বলেন, ‘আপনারা পাশের দেশগুলোর দিকে দেখেন। ভারতের কী কম সমস্যা আছে? ভারতে নির্বাচন হচ্ছে, সবাই সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। নেপালে একেবারে বিপরীতমুখী রাজনৈতিক দলগুলো, সোশ্যালস্টি, রেভ্যুলেশনারি, লিবারেল ডেমোক্রেন্সি ইলেকশন করছে এবং সবাই নির্বাচনে যাচ্ছে। সেখানে নির্বাচনে যাওয়ার পরিবেশ আছে। পাকিস্তানের মতো দেশ তারা পর্যন্ত নির্বাচনে যাচ্ছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের (রাজনৈতিক দল) বিশ্বাস আছে, আস্থা আছে। দুর্ভাগ্যজনক আমরা সেটা করতে পারি নাই। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ এই সংকট সৃষ্টি করেছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সিরাজগঞ্জে শুরু থেকে অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর থেকে একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মূল টার্গেটটা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও তার স্ত্রী। যেহেতু ২০০৮ সালে টুকু সাহেব নির্বাচন করতে পারেননি, নির্বাচন করেছেন ভাবি। সেজন্য নির্বাচনে জিতে এসেছেন। এই যে প্রতিরোধ, প্রতিহিংসার ব্যাপার আছে। এটা তারা কন্টিনিউ করে গেছে।’
আওয়ামী লীগ কোনও মতেই সন্ত্রাস ছাড়া টিকতে পারে না, প্রতিপক্ষকে তারা সহ্য করতে পারে না এবং সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষকে তারা নির্মূল করতে চায়। ত্রাস না করলে তারা শাসন করতে পারে না— এটা হচ্ছে তাদের পুরনো অভ্যাস। তারা সারাদেশে ত্রাস সৃষ্টি করছে।’
সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ তার ওপরে সন্ত্রাসী হামলার বিবরণ তুলে ধরেন। গত ১৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈলি রেলস্টেশন বাজার এলাকায় ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় রাজশাহী বিভাগীয় সম্মেলনের লিফলেট বিতরনের এক অনুষ্ঠানে জেলার সভাপতি রুমনা মাহমুদসহ নেতা-কর্মীদের ওপরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তার গাড়ি ভাঙচুর করে বলে তিনি দাবি করেন।
রুমনা মাহমুদের স্বামী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসায় বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন ও সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।