দিল্লি থেকে ফেরত আসা ‘ইনস্ট্যান্ট প্রতিবাদ’: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

0
সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনা এবং সেখান থেকে ফিরে আসার কারণ ব্যাখ্যা করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখার ঘটনাকে হয়রানিমূলক উল্লেখ করে সেখান থেকে ফিরে আসাকে ‘তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন, ২০২৬) সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি ওখানে (ভারতে) একজন ব্যক্তি হিসেবে যাইনি, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি। ফলে আমার সঙ্গে যা হয়েছে, আমার কাছে মনে হলো আমাদের ইনস্ট্যান্ট (তাৎক্ষণিক) একটা প্রতিবাদ হওয়া দরকার। সেই কারণে আসলে আমি ব্যাক করার (ফেরত আসা) সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটা বার্তা এই দেশ ও এই দেশের বাইরে যাওয়া দরকার যে এটা শেখ হাসিনার সরকার না। এটা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার।’ তবে এ ঘটনার মাধ্যমে কোনো পাল্টাপাল্টি নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তাঁর উদ্দেশ্য নয় এবং এটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে না বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন। ভবিষ্যতে যথাযথ আমন্ত্রণ পেলে সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে লজিক্যালি ও রেশনালি এনগেজ করতে পুনরায় ভারত সফরে যাবেন বলেও স্পষ্ট করেন উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, তথ্য উপদেষ্টার দিল্লি সফরের বিষয়টি অন্তত দুই দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছিল। এরপরও গত রোববার বিকেল ৫টার পর তিনি দিল্লির বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন ডেস্কে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়। সেখানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর উপস্থিতিতে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা উপদেষ্টার জন্মস্থান ও আগের সফর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁর আঙুলের ছাপ ও আইরিশ স্ক্যান নেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তীতে জানানো হয়, ইমিগ্রেশন নথিতে উপদেষ্টার নাম নজরদারি তালিকা বা ওয়াচলিস্টে (বারড) উঠে আসায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমন অবমাননাকর পরিস্থিতির পর ঢাকায় সর্বোচ্চ রাজনৈতিক মহলে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন উপদেষ্টা। যদিও পরবর্তীতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর ছাড়পত্র দিয়ে ভারতে প্রবেশের অনুরোধ জানিয়েছিল, তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে তীব্র অসন্তোষ জানানো হয়।