ঝিনাইদহে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষককে অবরুদ্ধের পর পুলিশ হেফাজতে

0
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সহকারী শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ও প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নেয়।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বড় বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) সকালে অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে তার শরীরে অশোভনভাবে হাত দিতেন। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য তাকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে দিতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সোমবার শিক্ষক তার হাতে ‘ওয়াশরুমে যাও’ লিখে দেন। এতে ভয় পেয়ে ওই ছাত্রী ওয়াশরুমে না গিয়ে বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে যায়।

অভিযোগে ওই ছাত্রী আরও জানিয়েছে, শুধু তার সঙ্গে নয়, তার কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গেও অভিযুক্ত শিক্ষক একই ধরনের আচরণ করতেন।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কর্তৃক লিখিত অভিযোগপত্র, যাতে শিক্ষক শাহ আলমের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

এ ঘটনা জানাজানি হলে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে। পরে শিক্ষককে বিদ্যালয়ের কার্যালয়ে রাখা হয়।

একপর্যায়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এইচ এম রোকনুজ্জামান ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা যেন আর কোনো শিশুর সঙ্গে না ঘটে। আমি এই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এইচ এম রোকনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ইউএনওসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা শিক্ষককে উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।