হাম-রুবেলার বাইরে থাকা ১৬ লাখ শিশুকে টিকাদানের উদ্যোগ সরকারের

0
হামের বিস্তার রোধে বাদ পড়া ১৬ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গে ৯১৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্যের পর এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।। ছবি: সংগৃহীত

দেশের যেসব এলাকার শিশুরা এখনো হাম-রুবেলার টিকা পায়নি, তাদের সবাইকে দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনার বড় উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর পাশাপাশি হামে আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নির্দেশিকা ব্যবহারে চিকিৎসকদের ব্যাপক প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

গত রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত টিকাবিষয়ক আন্তসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “হাম নিয়ে আইসিসি গুরুত্বপূর্ণ সভা করেছে। প্রায় সব ধরনের অংশীজন সভায় উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা বর্তমান সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু পকেটে (ছোট ছোট এলাকা) ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু টিকা পায়নি। তাদের সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। আমাদের কাছে এখনো ১৬ লাখ টিকা আছে।”

আইসিসির সভায় উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে বলা হয়, হামে আক্রান্ত রোগীদের শতকরা ১০ ভাগের বয়স ৬ মাসের নিচে। সবচেয়ে বেশি বা ৭৪ শতাংশ রোগীর বয়স ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস। এ ছাড়া ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু রয়েছে ১৪ শতাংশ এবং বাকি ২ শতাংশ রোগীর বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর বা তার চেয়ে বেশি।

এদিকে সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ৫ এপ্রিল থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯১২ জন শিশুকে হামের এক ডোজ টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।

একই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, হামের উপসর্গ নিয়ে শেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৮১৫ জন এবং গবেষণাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে মারা গেছে ৯৯ জন। অর্থাৎ চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৯১৪ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। মারা যাওয়া শিশুদের বড় অংশটির বয়স ৫ বছরের কম এবং তাদের বড় একটি অংশ পূর্বে কোনো টিকাই পায়নি।