ঝিকরগাছায় ল্যান্ডফোন গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে

0

 

তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর)॥ যশোরের ঝিকরগাছায় ল্যান্ডফোন ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না। সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও গ্রাহকের ঠিকানায় বিল পৌঁছে যাচ্ছে প্রতিমাসে। নম্বার বদলে গেলেও জানেন না কোনো গ্রাহক। সংযোগ বিচ্ছিন্নের আবেদন করার পরও বিল আসছে বছরের পর বছর। তথ্যপ্রযুক্তির আরও একধাপ এগিয়ে গ্রাহকরা যখন টেলিফোন লাইনের সাথে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করা শুরু করেছিলেন। ঠিক তখনই সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেবা প্রত্যাশী গ্রাহকরা সেই ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, ঝিকরগাছা টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি ২০০৬ সালের ৮আগস্ট যশোর উন্নয়নের কারিগর, বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলাম ও যশোর-২ আসনের সাবেক এমপি মুহাদ্দিস আবু সাঈদ উদ্বোধনের মাধ্যমে ডিজিটালে উন্নীত করেছিলেন। ২হাজার ৪’শ ৩২ টি লাইনে ডিজিটালে রূপান্তরিত হলেও সে সময় লাউজানী থেকে ঝিকরগাছা পৌরসদর হয়ে গদখালী বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার লাইন সচল ছিল। সে সংযোগ বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২শত ৪০টিতে।
এত কম সংখ্যক গ্রাহক হলেও সেবা বঞ্চিত প্রায় সবাই। ইন্টারনেট সেবা থেকে সাধারণ গ্রাহকরা শুধু না সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও বঞ্চিত রয়েছে। বিশেষ করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দফতর, সরকারি এম. এল মডেল হাইস্কুল, সরকারি শহীদ মশিয়ুর রহমান কলেজ, ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবসহ গণমাধ্যমকর্মী, সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ, সরকারি বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের দাবি, যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ঝিকরগাছা থেকে গদখালী পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজের কারণে টেলিফোন লাইনের আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল লাইন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বেশ কিছু সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে এ ব্যাপারে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। উপরন্ত মাসের পর মাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও গ্রাহকদের প্রতিমাসের বিল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

ঝিকরগাছা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন বিল্লাহ রুনু জানান, তিনি প্রায় দেড়বছর ধরে ল্যান্ডফোন লাইনের সংযোগ না থাকার পরও নিয়মিত বিল দিয়েছেন। স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ এখনো কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে এখনো নিয়মিত বিল আসায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়া গত দেড়বছর ধরে ফোন লাইন বন্ধ থাকলেও প্রতিমাসে ১শ ৭৩টাকার বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাবুল, সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন।
অসংখ্য গ্রাহকের অভিযোগ, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সংযোগ বিচ্ছিন্ন কিম্বা অব্যবহৃত থাকলেও গ্রাহকের কাছে বিল আসছে নিয়মিত। শুধু তাই-ই না ভুলেভরা ভৌতিক বিল আসছে। কোনো কোনো গ্রাহক বাংলাদেশ টেলিকমিনিকেশন্স কোম্পানি লিমিডেট (বিটিসিএল) ঝিকরগাছায় কর্মরত কর্মকর্তাদের ভোগান্তি ও ভৌতিক বিলের বিষয়ে বারবার অবহিত করলেও কোনো কাজে আসেনি।
অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। গ্রাহক যখন ল্যান্ড ফোনের সংযোগটি নিয়েছিলেন তখন তার যে নাম্বারটি ছিল তা অদৃশ্য কারণে পরিবর্তন করে নতুন নাম্বার সংযোজন করা হলেও গ্রাহককে অবহিত করার ন্যূনতম প্রয়োজন মনে করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে সরকারি-বেসরকারি কোনো গ্রাহকের টেলিফোন নাম্বার এখন আর অন্য কোনো গ্রাহক জানেন না। দু‘বছরপূর্বে ন্যুনতম বিল ছিল ৫৮ টাকা। বর্তমানে তা ১৭৩ টাকা হিসেবে দিতে হচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিসিএল যশোরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবাইদুর রহমান ও ঝিকরগাছার টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ মো. রেজাউল ইসলাম জানান, গ্রাহকদের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।