জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জানালো কৃষি বিভাগ ভবদহ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেওয়া প্রকল্পগুলো কোন কাজে আসছে না কৃষকের

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে কৃষি বিভাগ জানালো যশোরে ভবদহ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেওয়া প্রকল্পগুলো থেকে কোনো সুফল পাচ্ছে না কৃষক। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পগুলো যে কোনো কাজে আসবে না তা দীর্ঘ দিন ধরে বলে আসছেন যশোরের ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি নেতা-কর্মীরা। গতকাল রোববার যশোর জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় উল্লিখিত কথা বলেছেন যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. সুশান্ত কুমার তরফদার। সভায় তিনি বলেন, চাষাবাদের জন্য ভবদহ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেওয়া প্রকল্পগুলোর কোনো সুফল পাচ্ছে না কৃষকরা। যার চাষাবাদ করা গেলেও কেশবপুরে ১১ শ ফলে অভয়নগর ও মনিরামপুর হেক্টর জমি অনাবাদি রয়েছে। সুফল উপজেলার ভবদহ এলাকাতে কিছুটা পায় এমন প্রকল্প নেওয়ার দাবি জানান জেলা উত্তরন সমন্বয় সভা যশোর JASHORE গতকাল যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় -লোকসমাজ তিনি। এর আগে গত দুই বছর ধরে যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার সেচ প্রকল্প ও প্রস্তাবিত প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ প্রকল্প বাতিল করার দাবি জানিয়েছিল কিন্তু মনিরামপুরের তৎকালীন সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলে আসছিলেন প্রকল্প থেকেই সুফল পাবেন কৃষক। গতকাল বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে জেলা প্রশাসকের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার। এছাড়া সভায় ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক যশোর জেলা পরিষদ ভবন ধ্বংস নয়; বরং সংস্কার করে আধুনিকায়ন করার দাবি জানিয়েছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন। তিনি জেলা পরিষদ ও পৌর সভার কর্মকা-ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যশোরের ঐতিহ্যবাহী ভবন জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষীর জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নান্দনিক করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। কিন্ত জেলা পরিষদ ভবন ভাঙার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা অব্যশই নিন্দানীয় কাজ। এই ভবনটা সংস্কার করা উচিত। অথচ পরিষদের কর্তৃপক্ষ সেটা না করে এটার সৌন্দর্য নষ্ট করেছে। ভবনের পাশে জায়গা সংকুচিত করে মার্কেট নির্মাণ করেছে। সামনে অবৈধ দোকানপাট বসিয়ে এটার সৌন্দর্য নষ্ট করেছে। জেলা পরিষদের কি টাকার এতো অভাব হয়েছে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সাথে জেলা পরিষদের পাশে সাহিত্য পরিষদ ভবন ভেঙে ফেলায় সাহিত্যচর্চার নষ্ট করেছে জেলা পরিষদ অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া শহরের অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা ও হাসপাতাল চত্বরে অবেধ রিকশা ইজিবাইকস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। যার কারণে পথচারী ও রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তারপরেও কর্তৃপক্ষের এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো উদ্যোগ দেখছি না। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত সমাধানের তাগিদ দেন। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘যশোরে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের নতুন ভেরিয়েন্ট দেখা দিয়েছে। যশোরে এই ভেরিয়েন্ট রক্ষার্থে যশোর বেনাপোল বন্দর থেকে আসা যাত্রীদের পরীক্ষা করেই প্রবেশ করতে হচ্ছে। এছাড়া সরকার আবারও সারাদেশে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু করবে। যশোরও প্রস্তুতি নিচ্ছে। যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘যশোরে মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো তালিকা করে সেগুলোর সংরক্ষণের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা এমন কোনো স্থান খুঁজে পাচ্ছি না বা কোনো তালিকা পাইনি। কোনো সংস্থা তালিকা দিলে সাথে এটা সংরক্ষণ করা হবে। শহরের মনিহার চত্বরে বিজয়স্তম্ভ সংস্কার কাজ শেষ পর্যায়ে। সংস্কার করে সৌন্দর্যবর্ধন করে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তিনি জানান, যশোরের গদখালি ফুলের রাজ্য পর্যটন কেন্দ্র ঘোষণা করা যেতে পারে। এই কারণে এই সড়কগুলো সংস্কার করে প্রশস্ত করা যেতে পারে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার বলেন, ‘জেলা পরিষদ ভবন আমাদের ঐতিহ্য। এটা সরকারের পক্ষ থেকে ভাঙার সিন্ধান্ত হয়েছে; আবার জনগণও এটা ভাঙার বিপক্ষে। সব বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হবে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত হয়েছে; সেটা দ্রুত সমাধান করা হবে।’