জাতীয় সংসদের স্পিকারের স্মৃতিচারণে যশোরের ঐতিহাসিকতায় মুগ্ধতা

অন্যরকম আয়োজনে পালিত এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডে

0
যশোরে এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

স্পোর্টস রিপোর্টার, লোকসমাজ : তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের বিকাশে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত ‘এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডে’ এবার যশোরে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য আয়োজনে। শনিবার যশোর শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয় এ আয়োজন। এ বছর বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো দিবসটি উদযাপিত হলেও উদ্বোধনী আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল যশোর।

সকাল সাড়ে ১০টায় বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সালো কার্লোস সেসা, পাকিস্তান হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাচি জাইন আজিজ, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাফুফে সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এবং প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

যশোরে এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম শনিবার যশোর শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমিতে এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- লোকসমাজ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার মেজর (অব.) বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন যশোরের সঙ্গে নিজের স্মৃতিময় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, সামরিক জীবন এবং ফুটবল ক্যারিয়ারের নানা স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি বলেন, “যশোর আমার অত্যন্ত প্রিয় শহর। ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ যশোর ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা বিদ্রোহ করেছিলাম। সেখানে আট ঘণ্টাব্যাপী যুদ্ধ হয়েছিল। পরবর্তীতে এই অঞ্চলেই মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে তার প্রথম পোস্টিং ছিল যশোর ক্যান্টনমেন্টে এবং সেখানে আড়াই বছর কাটিয়েছেন। সেই সময়ের অসংখ্য স্মৃতি আজও তাকে আবেগাপ্লুত করে।

ফুটবল জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্পিকার বলেন, “১৯৬২ সালে যশোরের হয়ে ঢাকায় জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। যশোর স্টেডিয়ামে মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প হয়েছিল। তখন থেকেই দেখেছি, যশোরের মানুষ কতটা ক্রীড়াপ্রেমী।”

শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা নাসের শাহরিয়ার জাহেদী দেশের ফুটবলে যে অবদান রাখছেন, তা নজিরবিহীন। “তার মতো যদি দেশে আরও ১০ জন ক্রীড়ানুরাগী স্পন্সর থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশ ফুটবল বিশ্বকাপের কাছাকাছি পৌঁছে যেত,”— মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় দলে হামজা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যমজ ফুটবলার রোনান সুলিভান ও ডেক্লান সুলিভানের মতো খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দলে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, দেশের তৃণমূল ফুটবলের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দক্ষ কোচ তৈরির পাশাপাশি আর্জেন্টিনা থেকে প্রশিক্ষক আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাবনাময় ফুটবলারদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য আর্জেন্টিনায় পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

দিনব্যাপী এই ফুটবল ফেস্টিভ্যালে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের ২২টি একাডেমির প্রায় ৮০০ ক্ষুদে ফুটবলার অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭০০ জন বালক ও ১০০ জন বালিকা ফুটবলার ছিল। বর্ণাঢ্য আয়োজনের সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী সকল ফুটবলারের হাতে সনদপত্র ও ফুটবল তুলে দেওয়া হয়।