চৌগাছায় মাঠে কৃষকের কাটা ধান ভাসছে বৃষ্টির পানিতে

0

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ কালবৈশাখী ঝড় আর টানা বৃষ্টিপাতে চৌগাছার বোরো চাষিদের ধান ঘরে তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। মাঠে কেটে রাখা ধান তলিয়ে গেছে বৃষ্টিতে, নিচু জমির তলিয়ে যাওয়া ধান রক্ষায় কৃষকরা দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে আর বৃষ্টি না হলে ধানের খুব বেশি ক্ষতি হবে না বলে জানায় উপজেলা কৃষি বিভাগ।
গত মঙ্গলবার (৩ মে) সকাল থেকেইে চৌগাছার আকাশ ছিল মেঘাছন্ন। সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে প্রচন্ড ঝড় সেই সাথে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। হঠাৎ ঝড় আর বৃষ্টির কারণে এ জনপদের চাষিরা বোরো ধান নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। ঈদের আগে থেকেই অধিকাংশ এলাকাতে ধান কাটা শুরু হয়। মাঠে কেটে রাখা ধান তলিয়ে যায় পানিতে। ঈদের পরের দিন ওই সব ধান রক্ষায় চাষিরা ধান ক্ষেতে নিরলসভাবে কাজে করেন।
গত বুধবার (৪ মে) সকালে উপজেলার স্বরুপদাহ, সুখপুরিয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা মাঠে কেটে রাখা ধান জমি থেকে সড়কে বা উঁচু স্থানে আনার চেষ্টা করছেন। স্বরুপদাহ ইউনিয়নের জিওলগাড়ি মাঠে বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কেটে রাখা বোরো ধান। কৃষক অনিল দাস ক্ষেত থেকে ওই ধান রক্ষায় কাজ করছেন। এ সময় তিনি বলেন, একদিনের বৃষ্টিতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। ঈদের আগের দিন ধান কেটে জমিতে ফেলে রাখি। বিচালি (গো-খাদ্য) তৈরির জন্য জমিতে ধান কেটে রাখায় ছিল ভুল। এখন বিচালি তো দূরের কথা ধান ভালভাবে বাড়িতে নিতে পারবো কিনা তাই নিয়ে চিন্তাই আছি। বহিলাপোতা গ্রামের আমিনুর রহমান বলেন, বৃষ্টিতে কেটে রাখা ধান নিয়ে বেশ চিন্তিত। কিভাবে ধান বাড়িতে আনা যায় সেই ভাবনায় আছি। পুড়াপাড়া গ্রামের মুসা খাঁ বলেন, একদিনে বৃষ্টির কারণে সব কিছুই এলোমেলো হয়ে গেছে। মাঠের নিচু জমির ধান এখনও পানিতে ভাসছে। শেষমেষ কৃষকের ভাগ্যে কি আছে বুঝে উঠতে পারছি না।
সিংহঝুলী ইউনিয়নের চাষি শাহিনুর বলেন, এবছর ৯ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। ঈদের দিনের বৃষ্টির কারণে ধানের বেশ ক্ষতি হয়েছে। অনেক জমির ধান বাতাসে পড়ে গেছে। তবে বৃষ্টি আর না হলে হয়ত চাষিরা ভালো ভাবেই ধান বাড়িতে আনতে পারবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সমরেন বিশ্বাস বলেন, একদিনে বৃষ্টিতে খুব বেশি সমস্যা হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। তারপরও নিচু এলাকার কেটে রাখা ধানগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে বলে খবর পেয়েছি। ওই সব এলাকার চাষিদের জমির আইল কেটে পানি বের করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আর যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে কৃষক এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।