চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড; ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারালেন ৫ জন

0
বদলে যাচ্ছে ডেঙ্গুর মৌসুমি ধারা: জুলাইয়ের আগেই সংক্রমণ ও মৃত্যুর গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী।। প্রতীকী ছবি: এআই/লোকসমাজ
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটেছে। মহামারি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা দেখা গেছে।
আজ সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৫ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র জানা গেছে। এর আগে চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর রেকর্ড ছিল। নতুন এই ৫ জনসহ চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১৮ জন, যার মধ্যে কেবল এই জুন মাসেই মারা গেছেন ১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১ জন করে মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে এক কিশোরীসহ ৩ জন নারী এবং অপর ২ জন পুরুষ।

এদিকে মৃত্যুর পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভিড়। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯২৪ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫ হাজার ৪৫৫ জন, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ১০০ জন। সরকারি হিসাব মতে, কেবল চলতি জুন মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭২৭ জন ডেঙ্গু রোগী।

বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ জন রয়েছেন বরিশাল বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৮, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬, খুলনায় ১৪, রাজশাহীতে ৮ এবং ময়মনসিংহ ও ঢাকা মহানগরের বাইরে ২ জন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে, বিশেষ করে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা ছোট ছোট জলাধার এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অস্বাভাবিক আবহাওয়া, দীর্ঘ উষ্ণ সময় এবং দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ডেঙ্গুর চিরাচরিত মৌসুমি ধারা বদলে যাচ্ছে। এখন মৌসুম শুরুর অনেক আগেভাগেই সংক্রমণ শুরু হচ্ছে এবং তা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকায় জনস্বাস্থ্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।