গ্রামীণ খেলায় উৎসবমুখর একদিন বলাডাঙ্গায়

0
স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ, ডিসেম্বর ২০ : চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ ঊর্ধ্ব বিভিন্ন প্রতিযোগী। সবার চোখ গামছা দিয়ে বাঁধা। প্রায় ৫০ গজ দূরেই তাদের জন্য রাখা একটি মাটির হাঁড়ি। হাঁড়িটি ভাঙার জন্য হাতে দেওয়া হয়েছে একটি বাঁশের লাঠি। বিচারকের বাঁশি শুনেই পর্যায়ক্রমে হাঁড়ির দিকে ছুটছেন চোখবাঁধা প্রতিযোগী।  অন্ধের দৃষ্টিতে হেঁটে চলে প্রতিযোগীর লাঠি দিয়ে হাঁড়ি ভাঙার প্রাণপর চেষ্টা। অনেকেই ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত একজন ভাঙলেন। সাথে সাথে উপস্থিত দর্শকেরা ফেঁটে পড়লেন উচ্ছ্বাসে।  শুধু হাড়িভাঙ্গা নয়, যশোর সদর উপজেলার বলডাঙ্গা গ্রামে হা-ডু-ডু, কাবাডি, হাঁস ধরা, মোরগ লড়াই, বালিশ চেয়ার, তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠা, অংক দৌড়, বস্তার উপরে বসে টানা দৌড়, অন্ধভাবে পথ চলা, মেরুদণ্ডের শক্তি পরীক্ষাসহ প্রায় ২২টি খেলায় মেতে ওঠেন নারী-পুরুষ ও শিশুরা। ছিল যেমন খুশি তেমন সাজোর প্রতিযোগিতাও।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দিনভর এই উৎসবের আয়োজন করে স্থানীয় যুবসমাজ।দেশের বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ খেলায় অংশ নিয়ে অনেকেই ফিরে যান শৈশবে।
প্রাণ ছোঁয়া এ উৎসব দেখতে বলাডাঙ্গা গ্রামে আসেন আশেপাশের গ্রামের মানুষও।
আকবর ইসলাম নামে এক কৃষক বলেন, ‘এ ধরণের খেলাধুলা এখন আর হয় না গ্রামে। আগে পাড়া পাড়ায় হতো। অনেকদিন পর এ ধরণের খেলাধূলা করতে পেরে ছোটবেলায় ফিরে গেলাম।’
এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে গ্রামের বাড়ি বাড়ি উৎসবে ছড়িয়ে পড়ে। খেলাধুলা দেখতে আত্মীয় স্বজনেরাও এসেছেন বেড়াতে। এমন একজন কাকলি বেগম। তিনি জানান,  ‘এ ধরণের আয়োজন এখন আর হয় না। শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে এসেছি এ ধরণের খেলাধূলা দেখতে।ছোটবেলার খেলাধুলায় অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। খেলায় বয়স যেন কোন বাধা নয় সেটি আবারও প্রমাণ মিললো এই আয়োজনে। ছোট-বড় সকলে বিভিন্ন খেলায় অংশ নিয়ে নিজ পারদর্শিতায় হয়েছেন প্রথম, দ্বিতীয় তৃতীয়।’
দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ এসব খেলাধুৱা দেখে মুগ্ধ যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘এসব খেলাধুলা দেখে শৈশবে ফিরে গেলাম। এখন আর এমন আয়োজন  হয় না। তাই তো গ্রামে পাড়া পাড়ায় মানুষের মধ্যে বন্ধন হৃদতা কমে যাচ্ছে। সামাজিকভাবে বন্ধন অটুট রাখতে এমন আয়োজন বেশি বেশি করা উচিত।’
অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ও যশোর সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলাগুলোকে আগামী প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতেই এ ধরনের আয়োজন। অন্যদিকে শিশুরা এখন মুঠোফোনের আজব বাক্সে বন্দি। ভুলতে বসেছে গ্রামীণ সব ঐতিহ্য। অনেকেই আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে এ আয়োজন বলে তিনি জানান। নতুন প্রজন্মের অনেকেই গ্রামীণ খেলার নাম শুনেছে, কখনো দেখা হয়নি তাদের। তাই এমন আয়োজনে তারা ব্যাপক উৎসাহ দেখিয়েছে।’