গদখালী চন্দ্রমল্লিকার রঙে রঙিন

0

আকরামুজ্জামান॥ চন্দ্রমল্লিকা একটি অতি পরিচিত ফুল। মূলত শীত মৌসুমের এ ফুলটির বেশিরভাগ প্রজাতিরই উৎপত্তি পূর্ব এশিয়া থেকে এবং বৈচিত্র্যের কেন্দ্রস্থল চীন। আকর্ষণীয় এ ফুলের বর্তমান বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে যশোরের ‘ফুলসাম্রাজ্য’ গদখালীতে। সীমিত আকারে হলেও ইতিমধ্যে এর বেচাকেনা শুরু হয়েছে। আগামী বছর থেকে ব্যাপক আকারে চন্দ্রমল্লিকার চাষ ও বিপণন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট চাষিরা। শীতপ্রধান দেশের ফুল চন্দ্রমল্লিকা। এর বহু প্রজাতি রয়েছে। বাসা-বাড়ি, অফিস আদালতের শোভা বৃদ্ধির জন্যই এ ফুলটি বেশ জনপ্রিয়। অনেকে নার্সারী বা বাগানে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষভাবে চাষ করে থাকেন। ন চলতি মৌসুমে যশোরের গদখালীর পানিসারায় ফুল চাষি ইসমাইল হোসেন চন্দ্রমল্লিকা ফুলের বাণিজ্যিক চাষে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন।
ফুল চাষি ইসমাইল হোসেন জানান, ফুল সা¤্রাজ্য গদখালীতে গোলাপ, জারবেরা, রজনীগন্ধা, গ্লাডিউয়ালাসসহ নানা জাতের ফুল চাষ হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। প্রতিটি ফুল চাষই লাভজনক। তবে গত কয়েক বছরে গদখালীর ফুলক্ষেতগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের আগমন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্যটন এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি না পেলেও মানুষ ফুল কেনার পাশাপাশি বিনোদণের জন্য এখানে ঘুরতে আসেন। এ কারণে আমরা নানা জাতের ফুলের পাশাপাশি চন্দ্রমল্লিকা ফুল চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ এ ফুল ক্ষেত মানুষকে প্রাণবন্ত করে তোলে। ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ফুলের এতো চাহিদা তা আগে বুঝতে পারেনি। গত বছর আম্পান ও করোনার কারণে ফুল চাষে বিপর্যয় নেমে আসে। এরপর আমি ভারতের পুণে থেকে চন্দ্রমল্লিকার দুটি জাত সংগ্রহ পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করি। এরপর থেকে এর ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করি। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে এ ফুল চাষ করে তিনি আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন বলে জানান। প্রায় আড়াই বিঘা জমিতেই রয়েছে চন্দ্রমল্লিকা ফুলের গাছ। এর দুটি জাত। একটি পটফ্লাওয়ার ও অন্যটি কাটফ্লাওয়ার হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, প্রতিটি চারা ৪ থেকে ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশের যেসকল রাষ্ট্রীয় স্থাপনা রয়েছে সেসব স্থানে সৌন্দর্য বর্ধনে এ ফুল চাষ হয় বলে তিনি জানান।
চন্দ্রমল্লিকা রয়েছে বাহারি রং। কোনোটি সাদা, কোনোটি হলুদ, আবার কোনোটি লাল বা অন্য কোনো রঙের। প্রতিটি ফুলই হালকা সুগন্ধিযুক্ত। অন্যান্য ফুলের চেয়ে এ ফুল চাষে খরচ কম এবং ফলন বেশি। অল্প জমিতেই কয়েক লাখ ফুল চাষ করা সম্ভব। এজন্য দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে এ ফুলের চারা সংগ্রহ করতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। গম্প্রতি গদখালীর পানিসারা গ্রামে ইসমাইল হোসেনের চন্দ্রমল্লিকার ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় এক অপরূপ দৃশ্যে। নানান রঙের চন্দ্রমল্লিকার প্রস্ফুটিত হাসি সবার মন কাড়ছে। সেখানে দলে দলে আসছের দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার সেলফি তুলছেন। আবার কেউ চারা কিনে গাড়িতে তুলছেন। সেখানে কথা হয় খুলনার বটিয়াঘাটা থেকে স্বপরিবারে আসা আফসানা খাতুনের সাথে। তিনি বলেন, ফুল দেখার জন্য গদখালীতে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এখানে এসেছেন তিনি। তবে চন্দ্রমল্লিকার এ ক্ষেতে এসে তাদের প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। একই সময় কথা হয়, ঝিনাদইহের হাটগোপালপুরের রনজিৎ কুমারের সাথে। তিনি বলেন, এখান থেকে তিনি চন্দ্রমল্লিকার চারা কিনে কুষ্টিয়া, নাটোর, লালপুর, পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। এখানকার চন্দ্রমল্লিকার চারার আকার ও রঙ ভালো হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। তিনি বলেন, সরকারি অফিসের আঙিনায় শোভাবর্ধণের জন্য চন্দ্রমল্লিকার চাহিদা রয়েছে বেশ।