গদখালীতে নতুন বছরের প্রস্তুতি ফুলরাজ্যে নেমেছে রঙের উৎসব

0
গদখালী ফুলবাজার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নতুন বছরকে সামনে রেখে যশোরের গদখালী ফুলরাজ্যে শুরু হয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। শীতের কুয়াশা ভেদ করে ভোর হতেই বাজারে নেমে এসেছে রঙের স্রোত। গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্ল্যাডিওলাস, গাঁদা এবং নানা বাহারি ফুলে ভরে উঠেছে চারপাশ।

নতুন বছরের আগমনের অপেক্ষায় ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় বাড়ছে, চলছে আগাম বুকিং, আর দামও এখন ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিটি ফুল যেন আগাম বছরের আনন্দ ও সম্ভাবনার বার্তা বহন করছে, আর গদখালীর বাজারের প্রাণচাঞ্চল্য দেখাচ্ছে ২০২৬ সালের প্রথম সকালই দেশকে বরণ করে নেবে রঙের উৎসবে।

মৌসুমের শুরুতেই এ বছর ফুলের বাজার জমে উঠেছে আশাতীতভাবে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন গদখালী বাজার থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে এই বাজারে এমন দৃশ্য দেখা যায়, কিন্তু এবার নভেম্বরের শেষ থেকেই বাজার ভরে উঠেছে নতুন ফুলের সরবরাহে।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারমুখী হচ্ছেন ফুলচাষিরা। কেউ কাঁধে ব্যাগে ভরে, কেউ ঝুড়িতে সাজিয়ে, আবার কেউ ছোট ট্রলিতে করে নিয়ে আসছেন লাল, সাদা, কমলা, হলুদ রঙের বিভিন্ন জাতের ফুল। দেশের বিভিন্ন জেলা ঢাকা, খুলনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর থেকে শুরু করে দূর চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি ক্রেতারাও উপস্থিত হচ্ছেন ভোর থেকেই। এ বছর চাহিদা বেশি এবং সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় চাষিরা পাচ্ছেন আশাজাগানিয়া দাম।

পানিসারা গ্রামের চাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বাজার এ বছর খুব ভালো যাচ্ছে। সব ফুলের দামই তুলনামূলক বেশি। প্রতি পিস গোলাপ পাঁচ টাকা, রজনীগন্ধা চৌদ্দ থেকে ষোলো টাকা এবং গ্ল্যাডিওলাস আট থেকে দশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্ষায় কিছু ক্ষতি হয়েছিল, কিন্তু এই দামে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

একই কথা জানান চাষি রমজান আলী। তিনি বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতে বেশ ক্ষতি হয়েছিল। পরে নিয়মিত পরিচর্যায় ক্ষেতে এখন প্রচুর ফুল এসেছে। আশা করছি, নতুন বছরের শুরুতে আরও ভালো দাম পাওয়া যাবে।’

চাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক বছর ফুলের বাজার ভালো যাচ্ছিল না। কিন্তু এবার শুরুতেই ভালো দাম পাচ্ছি। গোলাপের দাম এখনও কিছুটা কম হলেও জানুয়ারিতে তা বাড়বে বলে আশা করছি।’

ফুলচাষি রফিকুল ইসলাম জানান, অন্য বছরগুলোতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বাজার জমলেও এবার আগেভাগেই বিক্রি বাড়ায় সবাই উৎসাহিত। সামনে ইংরেজি নববর্ষসহ বিশেষ দিনগুলো থাকায় বাজার আরও জমে উঠবে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলার পাইকাররা নববর্ষ উপলক্ষে আগাম বুকিং দিতে শুরু করেছেন। ঢাকার ব্যবসায়ী রাশিদুল হক বলেন, ‘রজনীগন্ধা ও গ্ল্যাডিওলাসের সরবরাহ একটু কম, তাই দামও বেশি। তবে গোলাপের সরবরাহ মোটামুটি ভালো, প্রতি শত গোলাপ চার থেকে পাঁচশো টাকায় কিনছি।’

ফুল ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আবু জাফর বলেন, ‘বিশেষ দিনগুলো ছাড়া অন্য সময় এত বিক্রি দেখা যায় না। কিন্তু এবার মৌসুম শুরুর আগেই বাজার চাঙ্গা। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হচ্ছে। নতুন বছর সামনে রেখে এই পরিমাণ আরও বাড়বে।’

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে নানা জাতের ফুল চাষ হয়েছে। শুধু ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী, পানিসারা ও আশপাশ এলাকায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে ১১ প্রজাতির ফুলের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ফুলচাষের অর্থনীতি সচল রাখতে কৃষকদের নানা প্রণোদনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।