খাবার চেয়ে রাস্তায় যশোরের আনসার ক্যাম্প এলাকার মানুষ

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ খাদ্যের দাবিতে গতকাল ফের যশোরের রাস্তায় নামলেন নিরন্ন মানুষেরা। প্রথমে তারা ‘খাদ্য চাই’, ‘ত্রাণ চাই’ প্ল্যাকার্ড হাতে মুজিব সড়কে প্রেসকাবের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ এসে তাদের পৌরসভা কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সেখানে অনেকণ অপোর পরও অভাবি এসব মানুষকে পৌরসভা থেকে খাবার দেয়া হয়। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রেসকাব যশোরের সামনে মানববন্ধন করেন পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আনসার ক্যাম্প চোপদারপাড়া এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ। তারা খাদ্য খাদ্য সহায়তার দাবি করছিলেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কর্মহীন মানুষেরা দাবি করেন, অঘোষিত লকডাউনের পর থেকে তাদের কাজ ছুটে গেছে। শহরে কাজের উদ্দেশে বের হলে ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ঘরে তো কোনো খাদ্য নেই। তাই অভুক্ত থাকতে হচ্ছে। সরকার খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দিলেও তারা কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন রাস্তায় নামা এই মানুষেরা। বলেন, বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমে আসতে হয়েছে তাদের।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় কোতয়ালি থানার উপ পরিদর্শক হারুনসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য। তারা মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের হটিয়ে পৌরসভা কার্যালয়ে পাঠান। পৌরসভা চত্বরে এসময় আসেন কোতয়ালি থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) তাসনীম আহমেদ। পরে তিনি লোকসমাজকে জানান, বেলা ১২টার পর পৌরসভার মেয়র সেখানে উপস্থিত ১৪০ জনকে খাদ্য সহায়তা করেন। পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার বলেন, ওই ১৪০ জনসহ আজ পৌরসভা থেকে ৩৫০ জনকে খাদ্য সহায়তা করা হয়েছে। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ছয় কেজি চাল, আলু ও ডাল। এদিকে যোগাযোগ করা হলে সাত নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, তার ওয়ার্ডে বস্তি রয়েছে ১২টি। তিনি জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার প থেকে মাত্র ২৪৩টি ত্রাণের স্লিপ পেয়েছেন; যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তিনি বলেন, পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে বৈঠক করে পর্যায়ক্রমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া ওএমএসের কার্ডও দেওয়া হবে গরিবদের। এর আগে এক সপ্তাহের মধ্যে শহরের অন্তত তিনটি স্থানে খাদ্যের দাবিতে লোকজন রাস্তায় নেমে আসেন। সেই সময় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেন, খাদ্য পৌঁছে যাবে বাড়িতে। গত ১৬ এপ্রিল কয়েকশ’ লোক যখন খাদ্যের দাবিতে কেন্দ্রীয় বাসটারমিনালের কাছে মহাসড়কে অবস্থান নেন, তখন সেখানে হাজির হয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শ্রমজীবী মানুষেরা খাবার সংকটে রয়েছেন বলে কবুল করেছিলেন। কিন্তু রামনগর ইউপি চেয়ারম্যান দাবি করেছিলেন, দুই ব্যক্তির উসকানিতে মানুষজন রাস্তায় নেমেছেন।