কোটচাঁদপুরের অস্ত্র স্বর্ণ ও মাদক ব্যবসায়ী রেজাউল দালাল আটক

0

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা ॥ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অস্ত্র, স্বর্ণ, মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী রেজাউল পাঠান ওরফে রেজাউল দালালকে যশোরের শার্শা থানা পুলিশ আটক করেছে। শুক্রবার রাতে তাকে আটক করে কোটচাঁদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। শনিবার দুপুরের পর রেজাউল দালালকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। রেজাউল দালালের বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ডাকাতি, দস্যুতা, মাদক ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। যশোরের শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার বাগআঁচড়া এলাকা থেকে সন্ত্রাসী রেজাউল দালালকে আটক করা হয় শুক্রবার রাতে। কোটচাঁদপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুল আলম বলেন, সন্ত্রাসী রেজাউলকে র্শাশা থানা থেকে আনার পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর শহরের আদর্শ পাড়ার মৃত মমিন পাঠানের ছেলে রেজাউল পাঠান। এলাকার মানুষের ভাষ্য মতে, মাঝে-মধ্যেই দেখা যেত গ্রামাঞ্চলে থানার কোনো অফিসার মামলার তদন্ত কাজে গেলে রেজাউল পাঠান তার মোটরসাইকেলে তাদের বহন করতেন। বিনিময়ে কিছু টাকা পেতেন। এ ভাবে পুলিশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার এক পর্যায়ে তিনি সোর্স হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। চোরাচালানীদের আনা ভারতীয় মাদক, চিনি, লবণ, শাড়ি-কাপড় থেকে শুরু করে আসামি ধরিয়ে দেওয়ার কাজে নেমে পড়েন তিনি। বছর দুয়েকের মধ্যে তিনি পুলিশের আস্থাভাজন সোর্স হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এলাকায় রেজাউল পাঠান থেকে পরিচিতি পান রেজাউল দালাল হিসেবে।
পুলিশের আস্থাভাজন হওয়ার সুযোগে সুচতুর রেজাউল সোর্সের কাজের পাশাপাশি নিজেই মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। পাশাপাশি পুলিশের অন্য সোর্সদের মাদক দিয়ে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়াসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করতে থাকেন। পরে নিজেই আবার ওই সোর্সদের জামিনে ছাড়িয়ে এনে নিজের পক্ষে ভেড়াতেন। ফলে অন্য সোর্সরা ঝামেলা এড়াতে রেজাউলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। রেজাউল মাদক সিন্ডিকেটের পাশাপাশি যোগ করেন স্বর্ণ ও অস্ত্র চোরাচালান ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, রাতের বেলায় অপরিচিত লোককে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কোটচাঁদপুর-জীবননগর মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কের নির্জন স্থানে গাড়ি থামিয়ে রেজাউল তল্লাশি করতো। এ ধরনের অপরাধ প্রচার হয়ে পড়ায় র‌্যাব-পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য বেশ কয়েক বার অভিযান চালায়। কিন্তু রেজাউল দালালকে ধরা সম্ভব হয়নি। পরে বিশেষ কায়দায় কিছু মাদক ও স্বর্ণের চালান ধরিয়ে দিয়ে আবারো প্রশাসনিক কর্তাদের আস্থ্ভাাজন হয়ে ওঠে সে। সে সময় কয়েকটি স্বর্ণের বড় ধরনের চালান ধরিয়ে দিয়ে রেজাউল দালালেরও রাতারাতি আর্থিক অবস্থা পাল্টিয়ে যায়। রেজাউল দালালের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে গ্রেফতারের দাবিতে কোটচাঁদপুর শহরে মানববন্ধন , মিছিলও করে এলাকাবাসী। পরে এলাকাবাসীর পক্ষে রেজাউল দালালের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন কোটচাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুজ্জামান সেলিম। ২০১৫ সালের ২৬ জুন রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রেজাউল দালালের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ১টি বিদেশী পিস্তল, ৪০ রাউন্ড গুলি, ফেনসিডিল, ইয়াবা, চাইনিজ কুড়াল, হাসুয়া, এয়ারগানের বাট, লক্ষাধিক নগদ টাকা, পুলিশের পোশাক ও হ্যান্ডকাফসহ রেজাউল দালাল ও তার দুই সহযোগীকে আটক করে র‌্যাব। জামিনে বের হবার পর র‌্যাব আবারো রেজাউল দালালকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। পরবর্তীতে জেল থেকে বের হয়ে মহেশপুরের পুরন্দপুর নামক স্থানে তার বাহিনী নিয়ে ডাকাতি শুরু করে। তারপর থেকে পুলিশ র‌্যাব ডিবি আরও তৎপর হলে সে পলাতক জীবন যাপন করে আসছিল।