কেশবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ দিন ৯ জন চিকিৎসকসহ ৮৭টি পদ শূন্য

0

জয়দেব চক্রবর্তী, কেশবপুর (যশোর) ॥ কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী পদে ২২টি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৬৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটে প্রতিদিন প্রায় ৬শ রোগীকে ঠিকমত চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাচ্ছে না।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। এ কমপ্লেক্সে একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও তা দীর্ঘদিন শূন্য। জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), (অর্থো), (কার্ডিও), (চক্ষু), (চর্ম ও যৌন)পদসহ চিকিৎসকদের ২১ পদের মধ্যে ৯টিই শূন্য রয়েছে। নেই নার্সিং সুপারভাইজার, প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিকের ৩টি পদের ৩টিই শূন্য, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিও), স্টোর কিপার, সহকারী নার্স, কার্ডিওগ্রাফার, কম্পাউন্ডার, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ৩টি পদ ও অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিকের ৩টি পদই শূন্য, ৩৯টি স্বাস্থ্য সহকারীর পদের মধ্যে ২২টিই শূন্য। দীর্ঘদিন গাড়ী চালক ও জুনিয়র মেকানিকের পদ শূন্য থাকায় রোগীরা অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এছাড়া, উন্নয়ন খাতভুক্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের ২৯টি পদের মধ্যে দুটি শূন্য। ৩য় শ্রেণির সর্বমোট ৭৮টি পদের মধ্যে ৩৬টি শূন্য। এছাড়া, ৪র্থ শ্রেণির নিরাপত্তা কর্মী, এমএলএসএস, মালি, ওয়ার্ড বয়, কুক, আয়া, ঝাড়ুদারসহ ২২ পদের ১২টি শূন্য। ডিজিটাল এক্সরে মেশিন না থাকায় এখন আর কোনো রোগী হাসপাতালের অ্যানালগ এক্সরে মেশিনে এক্সরে করতে আসে না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সব সময় রোগী বেশি থাকায় বেডে জায়গার অভাবে অধিকাংশ রোগীর মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়।
৩০ নভেম্বর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা কলারোয়ার দেয়াড়া গ্রামের আজিজুল গাজী জানান, সকাল ১০টায় এসে দুপুর সাড়ে ১২টায় ডাক্তার দেখিয়েছি। ডাক্তার রক্তের পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু কাগজ নিয়ে নার্সকে দেখালে তিনি বলেন, এ পরীক্ষা এখানে হয় না। এ পরীক্ষা আমি হাসপাতালে দেড় থেকে দুই শ টাকায় করাতে পারতাম। অথচ আমাকে বাইরে থেকে সেই পরীক্ষা ৮শ টাকায় করাতে হয়েছে। মনিরামপুরের পারখাজুরার ফরিদ আহমেদ জানান, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো চিকিৎসা সেবা নেই বললেই চলে। সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা মারামারিতে সামান্য আহত হয়ে হাসপাতালে আসলেই তারা রোগীকে জেলা সদর বা খুলনায় রেফার করে দেয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আলমগীর বলেন, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অনেক পদই শূন্য রয়েছে। যে কারণে আমরা প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। হাসপাতালে যে সংখ্যক রোগীর চাপ তাতে ৫০ থেকে ১০০ বেডে উন্নীত করা প্রয়োজন। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাশর্^বর্তী মনিরামপুর ও কলারোয়া উপজেলার রোগীরাও সেবা নিতে আসেন। চিকিৎসক নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত এ সংকট কমবে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পত্র দেওয়া হয়েছে।