কালীগঞ্জ পৌরসভায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ

0
ছবি: সংগৃহীত।

শিপলু জামান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)॥ কালীগঞ্জ পৌরসভা ১৯৯০ সালের ১৪ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। প্রতিষ্ঠার ৩৬ বছর পেরিয়ে গেলেও পৌর এলাকার সড়ক যোগাযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যায় জর্জরিত পৌরবাসী। সে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এসব সমস্যা সমাধানে এবার ৪৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা তৈরি করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় সাতটি প্রকল্প রাখা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ কোটি ৩৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

পৌরসভার ডিটেইলস অব প্রাইওরিটি সাব-প্রজেক্ট শীর্ষক নথিতে এসব তথ্য উল্লেখ রয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এসব উন্নয়নমূলক কাজের জন্যে আবেদন করা হয়। প্রকল্পগুলোর অর্থায়নের উৎস হিসেবে বিশ্বব্যাংক ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে কালীগঞ্জ পৌরসভা।

প্রথম পর্যায়ের সাতটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক (খাল) পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা, ড্রেন ও সড়কবাতি নির্মাণ। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। কলাহাট ডাকবাংলো থেকে কালিবাড়ি হয়ে নলডাঙ্গা সড়কের মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ ও সড়কবাতি স্থাপন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া নলডাঙ্গা সড়কের আসাদের বাড়ি থেকে চিত্রা নদী পর্যন্ত রাস্তা ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ও সড়কবাতি স্থাপনসহ কয়েকটি সংযোগ সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। হেলাই মামুন টি-স্টোর থেকে মাজেদের বাড়ি ও দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠ হয়ে চিত্রা নদী পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ ও সড়কবাতি স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে খাদ্যগুদাম মসজিদ থেকে বালিদাপাড়া খাল পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন নির্মাণ ও সুবল ড্রাইভারের বাড়ি থেকে চিত্রা নদী পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে গোসাই বাড়ি হয়ে চিত্রা নদী পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ ও সড়কবাতি স্থাপনে ১২ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং বলিদাপাড়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদ থেকে বড় রায়গ্রাম পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ ও সড়কবাতি স্থাপন ও সংযোগ সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে ৪৫টি প্রকল্পের বিস্তারিত তালিকায় পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা রয়েছে।

পৌরসভার বর্তমান উন্নয়নকাজের মধ্যে বলিদাপাড়া সড়কের ১ হাজার ৮৫ মিটার ও শ্রীরামপুর সড়কের ১ হাজার ২৯০ মিটার উন্নয়নকাজ চলমান।

পথচারী কামাল হোসেন বলেন, পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোথাও রাস্তা ভাঙাচোরা, আবার কোথাও বৃষ্টির পানি জমে চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেও অনেক এলাকায় পানি জমে থাকে।

ৎআরেক পথচারী সুজন হোসেন বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বাড়লেও সে তুলনায় সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের সমস্যার কারণে ক্রেতাদের দোকানে আসতে অসুবিধা হয়। বৃষ্টির সময় অনেক স্থানে কাদা ও পানি জমে থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রবীণ সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম রবি বলেন, একটি পৌরসভার উন্নয়ন শুধু রাস্তা নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কবাতি, বাজার ও নাগরিক সুবিধার সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন।

কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী কবির হাছান বলেন, পৌরসভার উন্নয়নে ৪৫টি অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের তালিকা তৈরি করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পৌর এলাকার সড়ক যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।