জলাবদ্ধ কেশবপুরে আমন অনাবাদে বিচালির সংকটে গোখাদ্যের অভাব

0

জয়দেব চক্রবর্তী, কেশবপুর (যশোর) ॥ প্রবল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আমন ধান ঘরে তুলতে না পেরে বিচালি সংকটে গবাদিপশুর খাদ্য যোগান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কেশবপুরের মানুষ। গোখাদ্যের সংকটে অনেক খামারি গবাদিপশু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, আমন মওসুমে এ উপজেলায় ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। এরমধ্যে আবাদ হয়েছিল ৯ হাজার ৫০৯ হেক্টর জমি। গত সেপ্টেম্বরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলাব্যাপী ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেকে ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। আবার কেউ ফসল কিছু পেলেও নষ্ট হয়েছে বিচালি। এ কারণে বিচালির সংকটে গোখাদ্যের অভাবে পড়েছেন কৃষক। অনেক কৃষক নদ-নদীর শেওলা কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন।

দোরমুটিয়া মোড়ের খামারি বিষ্ণুপদ দাস বলেন, তার খামারে ১৫/১৬টি গরু মোটা তাজাকরণের জন্য পালন করা হচ্ছিল। বর্তমান চড়ামূল্যে সুষম খাদ্য বিক্রি হচ্ছে। এরপরও রয়েছে বিচালির সংকট। তাই লোকসান এড়াতে তিনি এ ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে গরু বিক্রি করে দিয়েছেন।

কেশবপুর পশুহাটে বিচালি বিক্রি করতে আসা মাগুরার আজিবার রহমান জানান, তার এলাকা থেকে কেশবপুরে বিচালির দাম বেশি। যে কারণে তিনি বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিচালি কিনে নিয়ে আসেন পশুহাটে বিক্রি করতে। বর্তমান বাজারে এক কাউন (১৬ পোন) বিচালির দাম ৮ হাজার টাকা। আবার কোথাও এরচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে তার সংসার ভালোভাবেই চলছে। সপ্তাহের তিন দিন পশুহাট বাদে এখানে বিচালি বিক্রি করা যায়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অলকেস বলেন, এ উপজেলায় ২৬৯টি গরুর খামার রয়েছে। গাভীর খামার রয়েছে ১৭১টি। এর বাইরে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে প্রতি গৃহস্থের ঘরে কমপক্ষে ১টি করে গরু মোটা তাজাকরণের জন্যে পালন করা হচ্ছে। মোট গরু রয়েছে ৯৪ হাজার ৫৩৪টি। বিচালিই গরুর প্রধান খাদ্য। বিচালির চাহিদা পূরণে চাষিকে উন্নতজাতের ঘাস লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে বিচালির সংকট সমাধানের আশায় বোরো ধান ঘরে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন কৃষক। এ জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে প্রায় দেড় মাস।