কালীগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

0

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)সংবাদদাতা॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা। সরকার নির্ধারিত ফি পৌরসভার জমি শতকরা ১০ ও পৌরসভার বাইরে শতকরা ৮ টাকা। কিন্তু একটি চক্র কৌশলে সরকার নির্ধাতি ফি ছাড়াও দলিল প্রতি ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা। তারা বলছেন, সরকার নির্ধারিত ফি সাবরেজিস্ট্রি অফিসে টাঙিয়ে দেওয়া উচিৎ। এখানে সরকারি পে-অর্ডার ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থের জন্যে কোন রশিদ দেওয়া হয় না।
সরেজমিনে ৩০ অক্টোবর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মহরার পদে চাকরি করেন আব্দুল হান্নান। আব্দুল হান্নান সেবা গ্রহীতা ও দলিল লেখকদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক দলিল প্রতি ১৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনারশিদে আদায় করছেন। যার ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জ উপজেলায় নিয়মিত সাব রেজিস্টার নেই। ফলে এ উপজেলায় জমি রেজিস্ট্রির কাজ করতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার কাউসার আলী সপ্তাহে দুইদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার আসা- যাওয়ার খরচ, আপ্যায়ন, খুশি করা ও অফিস খরচের নামে আব্দুল হান্নান এসব টাকা আদায় করছেন বলে জানা গেছে। ২৯ ও ৩০ অক্টোবর কালীগঞ্জ উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে প্রায় দুইশ দলিল রেজিস্ট্রি হয়। এ দুইদিনে রেজিস্ট্রি হওয়া দলিল প্রতি ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা করে আদায় করেছেন আব্দুল হান্নান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলিল লেখক জানান, আব্দুল হান্নান শুধু রেজিস্ট্রির জন্যে না, দলিলের সিরিয়াল বাবদও ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা করে আদায় করে থাকেন। যারা টাকা দেন তাদের জমি রেজিস্ট্রি আগে হয়।দিন শেষে রাতে অফিসের দরজা বন্ধ করে এসব টাকা তিনি ভাগবাটোয়ারা করেন।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ রেজিস্ট্রি অফিসের মহরার আব্দুল হান্নান বলেন, সরকারি ফির অতিরিক্ত কোন টাকা আদায় করা হচ্ছে না। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যে। কেউ আপনাকে ভুল তথ্য দিয়েছে।
সাব রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কাওসার আলী বলেন, আমি কোনো টাকা পয়সা নেই না। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা নিলে প্রমাণ পেলে আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আর রশিদ ব্যতীত অতিরিক্ত ফি আদায়ের কোন সুযোগ নেই। ভুক্তভোগী কেউ থাকলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে বলেন। আমি দেখব।
ঝিনাইদহ জেলা রেজিস্ট্রার সাব্বির হোসেন জানান, বিনা রশিদে অফিসে বসে টাকা আদায়ের কোন নিয়ম নেই। কেউ যদি অনৈতিকভাবে কোন টাকা লেনদেন করে থাকেন তথ্য প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম জানান, জমি রেজিস্ট্রিতে অতিরিক্ত ফি আদায় করলে আমাকে তার তথ্য প্রমাণ দেন। অবশ্যই আমি বিষয়টি দেখব।