কারা ফটকে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখলেন বাগেরহাটের সাদ্দাম

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গায় ৯ মাসের শিশু সন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন যশোর কারাগারে কারাবন্দী স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী। এ ঘটনার পর শনিবার সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় মা ও শিশুর মরদেহ।

কারাগারের ভেতরে মরদেহ দুটি নেওয়া হলে জুয়েল হাসান সাদ্দামকে তার স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি স্ত্রীকে ছুঁয়ে দেখেন এবং জীবনে প্রথমবার নিজের শিশুসন্তানকে (লাশ) কোলে নেন।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী। জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।

স্বজনেরা জানান, স্বর্ণালী তার স্বামীকে খুব ভালোবাসতেন। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী কারাবন্দি থাকায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্বামীর মুক্তির জন্য অনেক চেষ্টা করে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। হতাশার কারণেই স্বর্ণালী প্রথমে তার ৯ মাসের শিশুকে বালতিতে থাকা পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন। পরে নিজে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল হাসান সাদ্দামের বাড়িতে তার মা, বোন, স্ত্রী ও সন্তান একসাথে বসবাস করতেন। কারাবন্দি অবস্থায় জুয়েল হাসান সাদ্দাম কখনো কখনো স্ত্রীকে চিরকুট লিখে পাঠাতেন এবং দ্রুত তাকে মুক্ত করার কথা বলতেন। এসব বিষয় স্বর্ণালীর ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিলো।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর জুয়েল হাসান সাদ্দামকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। সব নিয়ম মেনে সন্ধ্যার পর মরদেহ দুটি কারাগারে আনা হয়। স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখানোর পর আবার জুয়েল হাসান সাদ্দামকে তার নিজ ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।