এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপির হামলা ইস্যুতে জামায়াত-এনসিপি নেতাকর্মীদের ফেসবুকে বাদানুবাদ

0
জামায়াতের ইসলামী ও এনসিপির দলীয় মনোগ্রাম ।। ছবি: সংগৃহীত
হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও পাল্টাপাল্টি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এনসিপি সমর্থকদের অভিযোগ, জোটসঙ্গী জামায়াত এই হামলার বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বিএনপির প্রতি নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত সমর্থকদের দাবি—জুলাই মাসে এনসিপিকে আলোচনায় রাখতেই বিএনপি এই হামলার নাটক সাজিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় ছাত্রদলের হামলার মধ্য দিয়ে। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যকে মন্ত্রী-এমপিদের প্রতি অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে এই হামলা চালানো হয়, এতে আলিফ চৌধুরী নামে এনসিপির এক কর্মীর চোখ নষ্ট হয়ে যায়।

এরপর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধা এবং সিলেট ও কুড়িগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ইসলামী ছাত্রশিবির ও জোটের অন্যান্য দল প্রতিবাদ জানালেও জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়।

এই বিলম্বকে কেন্দ্র করে এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা ফেসবুকে অভিযোগ তোলেন, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলায় জামায়াত জোরালো অবস্থান নিচ্ছে না। এর জবাবে শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “বিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো খুবই সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্য যা হতে পারে– জুলাই মাসে জামায়াতকে যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন তৈরি করা। গুড প্ল্যান, গুড মুভ। (ডিপ পাওয়ার)।” যদিও পোস্টটি কিছুক্ষণ পর ডিলিট করা হয়, তবুও এটি কেন্দ্র করে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

এর জবাবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন পাল্টা স্ট্যাটাসে লেখেন, “জামায়াতের ৬০ বছর বয়সী সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। ঘটনা শুধু আলোচনাতেই ছিলেন না; বরং বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিছু মানুষ দেখলাম, যারা হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে এর মধ্যে গভীর পরিকল্পনার গন্ধ পাচ্ছে। এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক।”

দুই দলের নেতাকর্মীদের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে জোটেও মনকষাকষির গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

তবে ভার্চ্যুয়াল জগতের এই উত্তাপ মাঠের রাজনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলেনি বলে দাবি করছেন দুই দলের শীর্ষ নেতারা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চোখ হারানো এনসিপি কর্মী আলিফ চৌধুরীকে দেখতে যান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান এবং হামলায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন।

সামাজিক মাধ্যমের এই বিতর্কের গুরুত্ব খাটো করে দেখে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে তো কত কথাই হয়। এর কী গুরুত্ব আছে? দল আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কী বলছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। জোটসঙ্গী এনসিপির ওপর হামলাকে জামায়াত কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ করেছে।”