একান্ত সাক্ষাৎকারে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত , গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যখন পরিবর্তন ঘটে তখন স্বৈরশাসকের করুণ পরিণতি হয়

0

 

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে পদত্যাগে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময়ের আওয়ামী লীগের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। এরপর থেকে দেশজুড়ে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক লোকসমাজের মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিরি ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ( খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিশেষ সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন প্রতিবেদক মাসুদ রানা বাবু।
প্রশ্ন : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনই শুধু হয়নি, তাদের সভানেত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন- এমন পট পরিবর্তন ও এর প্রেক্ষাপট নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাই-
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : দেখেন আপনি নিজে বুঝতে পারছেন, গত ১৭ বছর যাবৎ তো আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে। এই সরকারের পতন বলেন কিংবা পরিবর্তন বলেন এটা তো আসলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হয়নি। এটা একটা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হয়েছে এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যখন সরকার পরিবর্তন ঘটে তখন সেই স্বৈরশাসক বলেন, সেই ফ্যাসিস্ট বলেন, সেই এক নায়ক তান্ত্রিক নেতার কথাই বলেন না কেন তার পরিণতি এ রকম করুণই হয়।
প্রশ্ন : এই প্রেক্ষাপটে দেশ জুড়ে যে গণজাগরণ ও বিজয় উল্লাসের পাশাপাশি বিশৃঙ্খলারও কিছু ঘটনা ঘটছে, এটা এই গণজাগরণের জন্য কিছুটা নেতিবাচক কিনা?
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : প্রথম কথা হচ্ছে আসলে ১৭ বছর মানুষের বুকের ওপর যে একটা জগদ্দল পাথর চেপেছিল। এই পাথর সরাবার জন্য তো আসলে বিএনপি ১৭ বছর যাবৎ লড়াই করছে। পরবর্তীতে এসে এই শেষ সময়ে ছাত্রদের ন্যায্যা দাবি যখন শাসক দল বুলেট দিয়ে মোকাবেল করতে গেছে, প্রতিনিয়ত যখন তাদেরকে হেয় করেছে, তাদেরকে ছোট করেছে। তখন ছাত্রদের তো এটা গণবিস্ফোরণ ঘটেছে। সেই গণবিস্ফোরণের ওপর আপনি যখন বুলেট দিয়ে মোকাবেল করতে গেছেন। তখন তো ছাত্র আন্দোলনের সাথে , ছাত্রদের বাবা, মা, ভাই, বোন সম্পৃক্ত হয়েছে। এভাবে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ যখন সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। সবাই মিলে যখন একটা পরিবর্তন চেয়েছে এবং সেই কাঙ্খিত পরিবর্তন যখন অর্জন করেছে তখন তো স্বাভাবিকভাবে তাৎক্ষণিক মানুষের বিজয় উল্লাস ছিল। এ রকমের পরিস্থিতি তো হয়েছিল স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে, এটা হয়তো বা দ্বিতীয়বার কিংবা প্রথমবারের মত এই অভিব্যাক্তি মানুষের। স্বাভাবিকভাবে সেই আবেগের প্রকাশটা কেমন হবে, উচ্ছ্বাসের প্রকাশটা কেমন হবে, অনুভূতির প্রকাশ কেমন হবে । এটা তো আসলে আপনি কোন নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দিয়ে পরিমাপ করতে পারবেন না। কিংবা এটার জন্য আবেগের মাত্রাও টা আপনি নির্ধারণ করে দিতে পারবেন না। হ্যাঁ এটাতে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে, সেটা না ঘটলেই ভালো হতো । কিন্তু আমি মনে করি এটা অস্বাভাবিক না, এটা অত্যান্ত স্বাভাবিক একটা প্রতিক্রিয়া।
প্রশ্ন : যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন হোটেলে অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে আপনার অভিমত-
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : শাহীন চাকলাদার সাহেবের মালিকাধীন যে জাবির হোটেল, এটাতে যেভাবে অগ্নিকান্ড সংঘঠিত হয়েছে, আমি ব্যাক্তিগতভাবে অত্যান্ত মর্মাহত। এটা একটা নারকীয় হত্যাযজ্ঞ আমি বলবো। আমাদের এতগুলো জীবনহানি ঘটলো। আমরা যেভাবেই বলি কেন না, এই সম্পদ কীভাবে আহরিত হয়েছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে । আমি মনে করি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলে, সেই সরকার হবে গণতান্ত্রিক সরকার, সেটা তার বিবেচনা করবার বিষয়। সেটা সাধারণ মানুষ হিসেবে আপনার-আমার খুবই একটা বিবেচনার বিষয় না। হ্যা ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকতে পারে, এই ধরণের প্রতিক্রিয়া যশোরে কোন দিন হয়নি। এটা আমি মনে করি- যশোরের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলেন, সামাজিক সংস্কৃতি বলেন, তার থেকে একটা ব্যতিক্রম ঘটনা । এটা যশোরের রাজনীতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে , সামাজিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটা কালিমা লেপন করেছে। আমার বক্তব্য খুবই স্পষ্ট, যে বা যারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে, হয়তো এখন আইনশৃঙ্খলা ও জেলা প্রশাসন স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম করছে না, কিন্তু বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এখানে অপারেট করছে। তারা চাইলে এর পেছনে কে বা কারা ছিল এটা অনুসন্ধান করে বের করা কঠিন হবে না।
আমি মনে করি সেটা বের করে তাদেরকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। যাতে এই ধরণের কোন ঘটনা আগামীতে কোনভাবেই না ঘটে। আমি আবারও প্রার্থনা করছি এই হত্যাকান্ডে যারা জীবন দিয়েছেন আল্লাহ পাক নিশ্চয়ই তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করবেন। শোকার্ত পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং যারা এখনো আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সুস্থতা কামনা করছি।
প্রশ্ন : বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখছি, বেশ কয়েকটি উপজেলায় হিন্দুদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুট হয়েছে, এটা সংখ্যালঘু নির্যাতন?
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : বাস্তবটা যদি বলেন যে, একেবারে হয়নি আমি বলবো না। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এটাকে যেভাবে কতিপয় গণমাধ্যম কিংবা কতিপয় রাজনৈতিক দল কিংবা বিশেষ কোন ব্যক্তি গোষ্ঠী অন্যভাবে তুলে আনতে চাচ্ছে। এভাবে বলে আসলে তারা বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করতে চায়। আমি একটা রাজনীতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যে, বাংলাদেশের মানুষ কোনভাবেই সাম্প্রদায়িক নয়। বাংলাদেশের মানুষ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের মধ্যে কোন পার্থক্য করে না। যদি কেউ করে সেটা খুবই কম। এটা ধরবার মত কোন ব্যাপার না।
বিভিণœ ধর্মের মানুষকে আক্রান্ত করে তাদের ধর্মীয় উপসানলয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে বরাবরই তৃতীয় পক্ষ একটা সুবিধাবাদী গোষ্ঠী ফায়দা লুটতে চায়। কিন্তু আমি মনে করি সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই বোনেরা অত্যান্ত সতর্ক। আর আমি তো এটা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আমার নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ, সমগ্র যশোরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। এই ধরণের বড় ধরণের কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা এখনো ঘটেনি। বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গায় হয়তো বা কারও বাসা বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিচ্ছিন্ন ইট পাটকেল পড়েছে, লুট হয়েছে। কিন্তু ধর্মীয় উপসানালয়, পূজা মন্ডপে এখনো পর্যন্ত কোন ধরণের ঘটনা ঘটেনি। আমি আপনাকে আশ্বাস্ত করতে পারি যশোরবাসী এ ব্যাপারে সতর্ক। কোন রাজনৈতিক দল কিংবা বিশেষ গোষ্ঠী ফায়দা নিতে চাইলেও যশোরবাসী এটা প্রতিহত করা জন্য গত ৫ তারিখ রাত থেকে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় টহল দিচ্ছে। এই টহলের ব্যাপ্তি পরিধি অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীতে এই দুষ্কৃতিকারীরা সাহস পাবে না। আর আমি ভিন্ন মতালম্বী ভাই বোনদের বলবো, এই দেশ আপনারও, এই যশোর আপনাদের। আপনারা কোনভাবেই দুর্বল নন, আপানারা কোনভাবেই কমজোর নন । আমরা যশোরবাসী আপানাদের পাশে আছি, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি আপনাদের পাশে আছে। আপনারা আপনাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন করবেন, আপনাদের স্বাভাবিক কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন। এ ব্যাপারে একটা রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে আমরা সকল পরিস্থিতিতে আপনাদের পাশে আছি, অতীতেও আপনারা দেখেছেন, আমরা ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাল্লাহ।
প্রশ্ন : বিগত সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর এত হিংসাত্মক ঘটনার নজির নেই, এবার কেন এমন হল?
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : নির্বাচনের মাধ্যমে যখন ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, তখন প্রতিক্রিয়াটা এত সহিংস হয় না। দেখেন পানির যখন স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ আপনি বন্ধ করে দেন, কোন বাঁধ দিয়ে হোক কিংবা অন্য কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে হোক, তখন কী হয় জানেন? দুই কুল ছাপিয়ে পানি তখন আশেপাশের সমতল ভূমি, জলাভূমিতে এটা প্লাবিত হয়। বন্যা হয়, বড় ধরনের ঘটনা ঘটে । আপনি মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, লেখবার স্বাধীনতা , বলবার স্বাধীনতা-আপনি গণমাধ্যমে একজন কর্মী, আপনিই বলেন, আপনি কি গত ১৭ বছরে যা লিখতে চেয়েছেন, লিখতে পেরেছেন? আপনাকে দশবার ভাবতে হয়েছে। আপনার পত্রিকার কথা, পত্রিকার বন্ধ হয়ে যায় কিনা। সেলফ সেন্সরশিপ তো একটা আরোপিত ছিলই আপনাদের ওপর। তো স্বাভাবিক ভাবে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া আপনি যখন বন্ধ করে দেবেন, তখন এই ধরণের ঘটনা ঘটবেই । ঘটনা অনাকাঙ্খিত হলেও সেটা অস্বাভাবিক নয়, আমি যেটা বললাম।
প্রশ্ন : আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে আমরা দেখেছি পুলিশের পক্ষপাত মূলক অতিউৎসাহী আচরণ, আবার সেই সরকারের পতনে জনরোষের শিকার পুলিশ যে তাদের কর্তব্য পালনে শর্ত আরোপ করছে- তা তারা করতে পারে কিনা?
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : পারে কি পারে না আমি এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাই না, এটা জনগণ বলবে। দেখেন এটা তো সত্য যে, আওয়ামী লীগ এ দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে । কোন সরকারি কর্মকর্তাÑকর্মচারী পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করেনি। হ্যাঁ প্রাথমিকভাবে আমরা তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছি, অসন্তুষ্ট হয়েছি। কিন্তু দিন শেষে এটা তো সরকার, যে বা যারা পরিচালনা করেছে, দায় তো তাদের, তারা সেভাবে এটা করেছে। হ্যাঁ, সরকারি কর্মকর্তারা পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে এটাই প্রত্যাশীত, তারা কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু আমি উদারভাবে ভাবতে চাই, আমি ইতিবাচকভাবে ভাবতে চাই। যে পুলিশ বলেন,যে সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে জনগণের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে দাঁড় করিয়েছিল। আমি মনে করি বিশ্বাস পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যেখানে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পতন ঘটেছে। এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আগামীতে যে কোন প্রশাসন বলেন, জেলা প্রশাসন বলেন, সরকারি যে কোন কর্মকর্ত-কর্মচারী বলেন তারা পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে। তারা তাদের আচারণ এবং কাজের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি এব্যাপারে আশা রাখতে চাই।
প্রশ্ন : আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দীর্ঘ নির্যাতনের শিকার হয়ে আপনি ও আপনার দল যে সহনশীলতার পরিচয় দিলেন, শেষ পর্যন্ত দলের মধ্যে তা ধরে রাখতে পারবেন কিনা?
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : এই সহনশীলতার পরিচয় কতটুকু দিলাম কি দিলাম না এটা যশোরবাসী বিবেচনা করবে। এটা নিয়ে যে আমাদের খুব একটা আত্মতুষ্টিতে ভুগবার কোন কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। এটা তো মানুষ হিসেবে শিক্ষা । এটা আমার পরিবারও শিক্ষা দিয়েছে, আমার দলও শিক্ষা দিয়েছে। আপনারা দেখেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্রপরিচালনা করেছেন। উনি কিন্তু উদার চিত্তে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। উনি কখনো বিরোধী মতকে দমন করেননি এভাবে । হ্যাঁ, রাজনৈতিক দলের যেমন চরিত্র থাকে , সেখানে কিছু থাকে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া। উনি কোনভাবেই ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের কারণে, ভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তার কারণে কোন মানুষকে সহিংসভাবে দমন করার চেষ্টা করেননি। সুতরাং এটা বিএনপির ঐহিত্য। আমার প্রিয় নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান যার কাছে লক্ষ্য কোটি তরুণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বি, উনিও যে উদাহরণ সৃষ্টি করলেন পরিবর্তিত বাংলাদেশে, সেটাও তো যে কোন মানুষের কাছে অনুসরণীয় এবং তার কর্মী হিসেবে গর্ববোধ করি। উনি দেখেন খুব স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছেন আমার দলের নেতা-কর্মীকে বারংবার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। আমাদেরকে তাৎক্ষনিক নির্দেশনা দিয়েছেন যে, এই ১৭ বছরের আমার দলের অনেক নেতা-কর্মীর অনেক ত্যাগ-তীতিক্ষা আছে। আমরা অনেক সহকর্মীকে হারিয়েছি, কেউ খুনের শিকার হয়েছে, কেউ গুমের শিকার হয়েছে, ৫০ লাখের বেশি নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলায় জর্জারিত হয়েছে। বহুবার তারা কারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই সময়টা প্রতিশোধের নয়, এই সময়টা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবার নয়। এই সময়টা সংযম প্রদর্শনের , এই সময়টা ধৈর্র্য্য ধারণের, এই সময়টা হচ্ছে ক্ষমার। নিশ্চয়ই আমরা যদি মানুষকে ক্ষমা করতে পারি , তাহলে একটা সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা আমাদের জন্য সহজ হবে। তাহলে যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের শিক্ষাটা রয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্বের এই বার্তাটা দলের তৃণমূলে রয়েছে। আমার দল অত্যান্ত সুশৃঙ্খল, সেটা আমরা গত ১৭ বছর প্রমাণ করেছি। আমি বিশ্বাস করি যে আমরা শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আমাদের দলের নেতা-কর্মী সর্বোচ্চ সহনশীলতা, সর্বোচ্চ সংযম, সর্বোচ্চ ধৈর্য্যশীলতার পরিচয় দেবে ইনশাল্লাহ।
প্রশ্ন : কিছু জায়গায় বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে,
দল হিসেবে বিএনপি কি ব্যবস্থা নিয়েছে?
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : দখল চাঁদাবাজি অভিযোগ যতগুলো এসেছে, আমরা যাচাই করে দেখেছি তার মধ্যে অধিকাংশই আসলে অপপ্রচার। এই সমাজে তো সবাই ভালো মানুষ তা নয়। সমাজে ভালো খারাপ উভয় মানুষ আছে। তো একটা রাজনৈতিক দলেও যদি বলি আমার দলে সবাই ভালো মানুষ আছে, এটা তো ঠিক না। এই সমাজের মানুষ নিয়ে তো একটা রাজনৈতিক দল গঠন হয়। কিন্তু আমি এতটুকু বলবো এই খারাপ সমাজে এই ঘুনে ধরা সমাজে, যে সমাজকে আওয়াম লীগ নষ্ট করেছে। সেই সমাজে এখানো বিএনপির সিংহভাগ নেতাকর্মী অত্যান্ত সৎভাবে জীবনযাপন করে। অত্যান্ত নৈতিক জীবনযাপন করে, তারা মানুষের বিপদে আপদে থাকে। মানুষের ক্ষতি করবার অভিপ্রায় তাদের কারও মধ্যে নেই। এরপরও যে কিছু বিচ্ছিন্ন যেটা ঘটেছে সেই বিচ্ছিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দল তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আমাদের প্রিয় নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান বলেছেন যাদের অপরাধ অত্যান্ত উচুমাত্রার তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে সোপর্দ করতে । যশোরে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। অন্য যে সকল জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে, তাদের বহিষ্কার করে খ্যান্ত হয়নি, আমরা তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে তুলে দিয়েছি।
প্রশ্ন : রাজনৈতিক সহঅবস্থানের ঐতিহ্য নষ্ট করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি যদি ভবিষ্যতে সরকার গঠন করে সেই ঐতিহ্য কি ফেরানো সম্ভব?
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত : যশোর তো দীর্ঘ দিনের একটা ঐতিহ্য ছিল, একটা রাজনৈতিক ঐতিহ্য ছিল। আমরা সামাজি ভাবে বাস করতাম । ভিন্ন রাজনৈতিক , মত পথের মানুষ, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ এক টেবিলে খেতাম । কোন শোকাহত মানুষ বিয়ে বাড়িতে , অথবা কোন শোকাহত পরিবারের আমরা এক সাথে দাঁড়াতাম। ১৭ বছরে এই সংস্কৃতিটা সারা দেশে নষ্ট হয়েছে। যশোরে আরও বেশি নষ্ট হয়েছে। দায়টা কে বা কাদের এটা আমি উল্লেখ করতে চাই না, এটা যশোরবাসী জানে। কিন্তু বরাবরই আমার প্রয়াত পিতা যশোরে একটা সুন্দর পরিবেশ রাখবার জন্য চেষ্টা করে গেছেন। আজকে উনার ইন্তিকালের প্রায় ছয় বছরপরও যশোর মানুষ তার অবদানের কথা অত্যান্ত কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। তার রক্তের উত্তরাধিকার আমি যেহেতু । ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রচারণায়ও আপনি দেখেছেন, আমি বলেছিলাম আমি নির্বাচিত হলে সেই ঐহিত্য ফিরিয়ে আনবো। যেখানে সব মত পথের মানুষ অত্যান্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে, সবাই সমমর্যদায় বসবাস করবে। তো আমি মনে করি বিএনপি যদি আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে এবং জনগণের দোয়া ও সমর্থনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যায়, শুধু যশোর নয় সমগ্র বাংলাদেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করবে যেখানে পরস্পরের মধ্যে সহমর্মিতা থাকবে, সহনশীলতা থাকবে, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকবে এবং ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন কিংবা ভিন্ন মতের কারণে কাউকে আক্রান্ত হতে হবে না, কাউকে কোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হবে না। এটা আমাদের জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা । আমরা জনগণকে বলবো আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রাখেন, আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থায় আপনারা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থন দেবেন, এটুকু আপনাদের কাছে দাবি করি, প্রত্যাশা করি এবং আমি মনে করি জনগণের প্রত্যাশীত সেই বাংলাদেশ দেশবাসীকে উপহার দিতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।
পরিশেষে লোকসমাজ পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা জানাই। লোকসমাজ শুধু যশোর নয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যান্ত জনপ্রিয় পত্রিকা। আমি বলবো যে, এই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবার জন্য লোকসমাজের অনেক ত্যাগ আছে। আমি জানি বিগত ১৭ বছর ধরে আপনারা সকল ধরণের সরকারি বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এমনকি বড় বড় কর্পোরেট হাউসও লোকসমাজে বিজ্ঞাপন দিতে কুণ্ঠাবোধ করেছে। লোকসমাজের মালিক কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক চেতনার জায়গা থেকে যশোর তথা দক্ষিণ-পশ্চিাঞ্চলের মানুষের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ঝুঁকি নিয়ে হলেও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করেছি, সেই লড়াইয়ে লোকসমাজকে সহযাত্রী হিসেবে পেয়েছি। আমি সেই কারণে লোকসমাজ কর্তৃপক্ষ , সাংবাদিক, সকল কর্মকর্তাবৃন্দ আমি তাদেরকে ব্যাক্তিগত ভাবে এবং বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের পক্ষ থেকে কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করি।