ঈদযাত্রায় বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাড়ির পথে মানুষ, ফেরিঘাট ও মহাসড়কে তীব্র চাপ

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ :পবিত্র ঈদুল আজহা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে উদযাপন করতে গ্রামের বাড়ির পথে ছুটছেন ঘরমুখো মানুষ। তবে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিরূপ আবহাওয়া। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির মধ্যেও নাড়ির টানে সব বয়সী মানুষ বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও অনেকেই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে জানিয়েছেন। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

এদিকে সোমবার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পরও ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রী পরিবহন বন্ধ হয়নি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এছাড়া আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে চলাচল করছে ৫টি ফেরি। যাত্রী পারাপারের জন্য ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করছে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে প্রায় ৪৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সাদা পোশাকের পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘাট এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশও প্রস্তুত রয়েছে।

ঈদযাত্রা

যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবহন ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা থেকে পাটুরিয়া রুটে স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া ১৫০ টাকা হলেও বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। যাত্রীরা বলছেন, প্রতি ঈদেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় তাদের।

সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়তে শুরু করে। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঝুঁকি নিয়েই মোটরসাইকেলে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

টাঙ্গাইলে ধীরগতির যান চলাচল

ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতও দেখা গেছে।

গাজীপুরে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট

গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন ও মানুষের চাপ আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

অনেক যাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। গণপরিবহনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে যাত্রীদের। প্রায় প্রতিটি যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

শিল্প পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলো তিন ধাপে ছুটি শুরু করেছে। সোমবার প্রথম ধাপে ৪২ শতাংশ কারখানা ছুটি হয়েছে। মঙ্গলবার আরও ৪৫ শতাংশ শিল্পকারখানা দুপুরের পর ছুটি হবে।