ইরানে টানা অষ্টম রাতের মতো মার্কিন হামলা, বন্দর আব্বাস ও কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণ

0
কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে ।। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং কাছাকাছি কেশম দ্বীপে টানা অষ্টম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এই দুই কৌশলগত এলাকায় একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসের বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ঘটনার পর পরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি ও কারণ তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত বা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের প্রত্যক্ষ হামলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার কথা জানাননি।

তাসনিমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৩৮ মিনিটে কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্বীপের অন্তত ৩ থেকে ৫টি স্থানে আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী।

এর আগে কেশম দ্বীপের উপকণ্ঠে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে তাসনিমের প্রতিনিধি নিশ্চিত করলেও নিরাপত্তা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, গত শুক্রবারের ওই হামলার পর থেকে নিখোঁজ থাকা সেনাসদস্যের সন্ধান চালানো হচ্ছে। সেন্টকম আরও জানায়, হামলায় আহত চার মার্কিন সেনাকে উদ্ধার করে দ্রুত জর্ডানের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, যারা চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যেই ছাড়া পেয়েছেন। এছাড়া সামান্য আহত হওয়া বাকি সেনাসদস্যদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবারও ডিউটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।