আ.লীগ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে ফ্যাসিবাদের শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল

সংবাদপত্রের কালো দিবসের জেইউজের সভা

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ১৬ জুন ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে যশোরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ও এসএম সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ যতবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, ততবারই দেশে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।

কারণ ফ্যাসিবাদই তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও মূলনীতির অংশ। তারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেছে। ১৯৭৫ সালে সব সংবাদপত্র বন্ধ করে মাত্র চারটি সংবাদপত্র প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি ছিল শেখ পরিবারের আত্মীয়-স্বজনের নিয়ন্ত্রণে।

বক্তারা সংবাদপত্রের কালো দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি এবং সত্য প্রকাশের সংগ্রামে সাংবাদিকদের ভূমিকা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, দেশ ও সমাজের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে সাংবাদিকরা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং পেশাদার সাংবাদিকতার বিকাশে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কবি, গবেষক ও সাংবাদিক বেনজীন খান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নেই।

শোষকগোষ্ঠী সবসময়ই বিভিন্ন কৌশলে সংবাদকর্মীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করে। যেমনটি শেখ মুজিবের শাসনামলে করা হয়েছিলো। তাই সাংবাদিক সমাজকে সতর্ক, সংগঠিত ও সচেতন থাকতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দিনের বিষয় নয়; এটি আমাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সম্পাদক আহসান কবীর, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সহকারী মহাসচিব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি নূর ইসলাম, বর্তমান সহ-সভাপতি আসাদুল ইসলাম(বিএম আসাদ), সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সাইফ, সাইফুল ইসলাম সজল, সরোয়ার হোসেন, কাজী আশরাফুল আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ আব্দুল্লাহ হোসাইন এবং তরিকুল ইসলাম তারেক।

বক্তারা বলেন, সংবাদপত্রের কালো দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজের সংগ্রাম ও প্রতিরোধের প্রতীক। দিবসটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার অনুপ্রেরণা জোগায়। একই সঙ্গে তারা সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের নেতৃবৃন্দ, সাধারণ সদস্য, প্রেসক্লাবের সদস্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি শহিদ জয়, বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এমএ আর মশিউর, কোষাধ্যক্ষ মীর কামরুজ্জামান মনি, দপ্তর সম্পাদক কাজী রফিকুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংস্কৃতিক সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান মনি, কার্যনির্বাহী সদস্য হানিফ ডাকুয়া উপস্থিত ছিলেন।