‘আমরা থানা পুড়িয়েছি, এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি’— বৈষম্যবিরোধী নেতা

0
ওসির চেম্বারেই ‘থানা পোড়ানো ও পুলিশ হত্যার’ হুমকি; ভাইরাল ভিডিওতে মাহদী হাসানের মারমুখী রূপ ।। ছবি: সংগৃহীত
লোকসমাজ ডেস্ক ॥ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সঙ্গে প্রকাশ্য বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দেওয়া এবং পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘জ্বালিয়ে’ দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনার উল্লেখ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসান। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে থানার ভেতরে সংঘটিত এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ এনামুল হাসান নয়ন নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল ছাত্র থানায় প্রবেশ করেন। তাঁরা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে আটক নয়নকে অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। পুলিশ শুরুতে আইনগত কারণে তাকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে মাহদী হাসানের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাহদী হাসান মারমুখী ভঙ্গিতে ওসির উদ্দেশ্যে বলছেন, “আমরা আন্দোলন করে গভমেন্টকে রিফর্ম করেছি। সেই জায়গায় প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করছেন। এখন বলছেন, আন্দোলনকারী হয়েছেন তো কী হয়েছে? আমাদের এইখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আপনি এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু কোন সাহসে এই কথা বললেন জানতে চাই।” একপর্যায়ে ব্যাপক চাপের মুখে পুলিশ আটক এনামুল হাসান নয়নকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

মাহদী হাসানের এই বক্তব্য নিয়ে আইনি মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। হবিগঞ্জ আদালতের একজন সিনিয়র আইনজীবী মন্তব্য করেছেন, জনসম্মুখে দেওয়া এই বক্তব্য ভবিষ্যতে বানিয়াচং থানার সহিংসতার মামলায় ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং অপরাধ প্রমাণের শক্তিশালী দলিল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহদী হাসান বলেন, “আমি রাগান্বিত অবস্থায় কথা বলছিলাম। ওই সময় ‘স্লিপ অব টাং’-এর কারণে কথাগুলো বেরিয়ে গেছে। পরে আমি বিষয়টি বুঝতে পেরেছি।”

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন জানিয়েছেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন। আটক নয়ন সম্পর্কে তিনি জানান, নয়ন একসময় ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে নেই বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন এবং এর সপক্ষে প্রমাণ দেখিয়েছেন। তবে থানার ভেতরে এ ধরণের উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।