১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি থেকে সরে এল খেলাফত মজলিস

0
রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেয় খেলাফত মজলিস।। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচন-উত্তর রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ১১-দলীয় ঐক্যের যাবতীয় জোটবদ্ধ কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খেলাফত মজলিস।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে তারা এই নির্বাচনী ঐক্যের যৌথ কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল। এখন থেকে দলটি রাজপথে নিজস্ব ব্যানারে এককভাবে কর্মসূচি পালন করবে।

শনিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১১-দলীয় ঐক্যটি মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। জাতীয় নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে এই জোটের প্রাথমিক কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। তবুও নির্বাচন পরবর্তী কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিলেও এখন থেকে এই ঐক্যের আর কোনো যৌথ কর্মসূচিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমাদ আলী কাসেমী বলেন, এখন থেকে দল এককভাবে রাজপথের কর্মসূচি পরিচালনা করবে। তবে দলীয় কর্মসূচিতে অন্য দলের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ কিংবা খেলাফত মজলিসের নেতাদের অন্যান্য দলের কর্মসূচিতে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত থাকবে।

এছাড়া সংসদে দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সক্রিয় বিরোধীদলীয় ভূমিকা পালন করে যাবেন। ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে দলটি।

মজলিসে শুরার অধিবেশনে জাতীয় রাজনীতি ও সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খেলাফত নেতারা। আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায়কে পাশ কাটিয়ে সরকার স্বকীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করেছে। এটি জনগণের রায়কে উপেক্ষার শামিল।

ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পুনরুত্থান রোধে সংসদে অবিলম্বে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান খেলাফত নেতারা।

একই সাথে জুলাই ও শাপলা চত্বরের গণহত্যার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার তাগিদ দেন তারা। গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সকল বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরে গণসমাবেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। এছাড়া আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও এককভাবে যথাসম্ভব প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।