আজ সিটি ক্যাবলে কাস সম্প্রচার যশোরে ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থীই অনলাইন ক্লাসের আওতায় আসছে না

0

মোস্তফা রুহুল কুদ্দুস ॥ করোনা মহামারীর সংক্রমণ রোধে তিনমাস চারদিন বন্ধ থাকার পর যশোর জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে আজ সোমবার রাত থেকে শিক্ষার্থীদের অনলাইন কাস শুরু হচ্ছে। যশোরের ৯৫ ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থী এই কাসের সুযোগ পাচ্ছে না। এর আগে টেলিভিশন ও কিছু স্কুল কেন্দ্রিক অনলাইন কাস শুরু হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা সুফল পায়নি। অবশ্য শিক্ষা অফিস বলছে, পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র ১৮ দিনের জন্যে সীমিত সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে অনলাইন কাস শুরু হচ্ছে। এতে সফলতা এলে কাস আরও সম্প্রসারিত করা হবে।
গত ৮ মার্চ করোনা শনাক্ত হবার পর ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হচ্ছে। এ অবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীরা বই বিমুখ হয়ে পড়ে। বিষয়টি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে কাস সম্প্রচার শুরু করেছে। শিক্ষা অফিসের তাগাদায় কিছু কিছু স্কুল মাসখানেক এ কার্যক্রম শুরু করে। জেলা শিক্ষা অফিস বিষয়টি তদারকির জন্যে তাদের অধঃস্তন অফিসকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দুই অনলাইন কার্যক্রম অগোছালো ও সহজবোধ্য নয়। যার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা এ থেকে সুবিধা নিতে পারেনি। এমনই এক প্রেক্ষাপটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থা তিনমাস পার হয়ে গেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রেখে যশোর জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিস ক্যাবল অপারেটিং প্রতিষ্ঠান সিটি ক্যাবলের মাধ্যমে অনলাইন কাস সম্প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে। আজ ২২ জুন সন্ধ্যা ৭টায় এই কাস সম্প্রচারের কথা। সে রকম প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত এই কাস চলবে পরীক্ষামূলকভাবে। কিন্তু সিটি ক্যাবলের সীমাবদ্ধতার কারণে কাস সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে যশোর সদর উপজেলার ১০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এর আওতায় আসছে। অথচ, যশোর জেলায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৮৪০টি। যেখানে অধ্যয়ন করে ৩ লক্ষাধিক ছাত্র-ছাত্রী। যশোর সদর উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠান অনলাইন পাঠদানের আওতায় আসলেও সুবিধা পাবে মাত্র ১০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী। অর্থাৎ মোট শিক্ষার্থীর ৯৫ ভাগেরও বেশি এ সুযোগ পাচ্ছে না। সিটি ক্যাবলের মাধ্যমে এ কার্যক্রম কতটুকু ফলপ্রসূ হবে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যশোর জিলা স্কুলের ১০ম শ্রেণির ১ রোল নম্বরধারী ছাত্র জানায়, সংসদ টিভির কাসে হতাশ হয়ে সে স্কুল ও কোচিং সেন্টারের অনলাইনে কাস করছে। সুজলপুর গ্রামের সাবিনা ইয়াসমিনের ছেলে মুক্তেশ্বরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে এবং মেয়ে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তারা সংসদ টিভির কাব ২/৩ দিন করেছে। কারণ জানতে চাইলে সাবিনা ইয়াসমিন জানান, টিভির সম্প্রচার স্পষ্ট শোনা যায় না। যারা পাঠদান করেন তারা ইংরেজি ভাষাকে প্রাধান্য দেন। যশোরের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে দায়সারাভাবে কাস নেয়া হচ্ছে। যার সুবিধা পাচ্ছে না বেশিরভাড় ছাত্র-ছাত্রী। জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসার পরীক্ষামূলক অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে আশার সঞ্চায় হয়েছে। তবে সিটি ক্যাবল ও কারিগরি জটিলতার কারণে কতদূর ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার এএসএম আব্দুল খালেক বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করেছি। দেখা যাক, কতদূর এগিয়ে নেয়া যায়।
কাস রুটিন
অষ্টম শ্রেণি : রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৩০-৭টা ৫৫ পর্যন্ত বাংলা, রাত ৭টা ৫৫ থেকে ৮টা ২০ পর্যন্ত গণিত।
১০ম শ্রেণি : রোববার রাত ৮টা ২০ থেকে ৮টা ৪৫ গণিত ও রাত ৮ট-৪৫ থেকে ৯টা ১০ পর্যন্ত পদার্থ বিজ্ঞান।