এবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অভয়নগর উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন : সভাপতি ফারাজি মতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম হায়দার ডাবলু

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যশোরের অভয়নগর উপজেলা বিএনপির শীর্ষ চারটি পদের নেতা নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত নেতারা হলেন সভাপতি পদে ফারাজি মতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক কাজী গোলাম হায়দার ডাবলু এবং দুটি সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কামাল হোসেন ও এফ এম গিয়াস উদ্দিন।
শুক্রবার যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে উৎসব এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯ টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে মাঝখানে জুমার নামাজ বিরতি দিয়ে শেষ হয় বিকেল ৪ টায়। ভোটগ্রহণ চলাকালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আন্দোলন সংগ্রাম করছে। রাজপথের আন্দোলনে প্রাথমিক বিজয় শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে হলেও আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাইনি। সমাজের সর্বস্তরে গণতন্ত্রের চর্চা হোক এটি বিএনপি প্রত্যাশা করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যাকে বেছে নেবে তার নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়া উচিত। হোক সেটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন এমনকি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে। সে কারণে আমাদের নেতা দেশ নায়ক তারেক রহমানের উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং পরামর্শক্রমে যশোর জেলা বিএনপি গণতন্ত্রের চর্চা করছে। তারই ধারাবাহিকতায় এখানে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে তৃণমূলের কর্মীরা অত্যান্ত আনন্দঘন, উৎসব এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নেতা নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। তারা যাকে আগামী দিনের নেতৃত্ব বেছে নেবে তার নেতৃত্বে দল পরিচালিত হবে এবং সেই নেতৃত্ব তৃণমূলের কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।
ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের পদচারণায় গোটা পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা মুখোরিত হয়ে ওঠে। শীর্ষ চারটি পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক এবং দুটি সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তিন পদে পাঁচ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সভাপতি পদে ফারাজি মতিয়ার রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচনে ৫৬৮ জন ভোটারের মধ্যে ৫৬৫ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে কাজী গোলাম হায়দার ডাবলু ২৮৭ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী মশিয়ার রহমান ২৭৪ ভোট পান। দুটি সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কামাল হোসেন ৩৫০ এবং এফ এম গিয়াস উদ্দিন ২৯০ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তাদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ মো. আসাদুল্লাহ আসাদ ২৬০ ভোট পান। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য মিজানুর রহমান খান, সিরাজুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আশরাফুজ্জামান মিঠু, নগর বিএনপির সাংগঠনিক মনিরুজ্জামান মাসুম, যুগ্ম- সম্পাদক জহিরুল আলম এবং সদর উপজেলা বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন আলা।
এদিকে ভোট গ্রহণ চলাকালে জেলা বিএনপির সদস্য এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, আব্দুস সালাম আজাদ, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। ভোট গণনা শেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ফলাফল ঘোষণা করেন।