ঢাকায় প্রায় ২ কোটি মানুষ ভাড়া বাসায় বাস করেন

বিশ্ব বসতি দিবস আজ

0
বিশ্ব বসতি দিবসে উন্মোচিত হলো ঢাকার আবাসন সংকটের বাস্তবচিত্র। রাজধানীর প্রায় দুই কোটি মানুষ নিজস্ব আবাসনহীন অবস্থায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। সংকট কাটাতে টেকসই নগরায়ণ ও নীতিগত উদ্যোগের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব বসতি দিবসে আবাসন সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে রাজধানী ঢাকায়। দীর্ঘ কর্মজীবনেও একটি ফ্ল্যাট বা টুকরো জমি কেনার সামর্থ্য হচ্ছে না বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত কর্মজীবীর। আয়ের বড় অংশই সংসার চালানো, সন্তান-সন্ততির লেখাপড়া এবং স্বজনদের চিকিৎসার পেছনে চলে যাওয়ায় বাড়তি সঞ্চয় করার কোনো সুযোগ থাকছে না। ফলে জীবন সায়াহ্নে এসেও নিজস্ব ঠিকানার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা আরও করুণ; তাদের বড় একটি অংশের ঠাঁই হচ্ছে বস্তি কিংবা বসবাসের অনুপযোগী ছোট কক্ষে।

সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয়, ঢাকার আড়াই কোটি জনসংখ্যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ মানুষের নিজস্ব আবাসন রয়েছে। সে হিসেবে দেশের রাজধানীতে প্রায় দুই কোটি মানুষকে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে হচ্ছে।

এমন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর একটি কর্মসূচিতে স্থান পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি। এর আগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শেরেবাংলা নগর এলাকায় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে তিন দিনের আবাসন মেলা।

নগর ও আবাসন বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, আবাসন সংকট সমাধানে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করা জরুরি। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে কম সুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু করার পাশাপাশি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া আবাসন খাতের ওপর কর ও ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার পাশাপাশি সরকার ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অংশীদারিত্বে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প হাতে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগের নিশ্চয়তা তৈরি হলে আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।

জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙনসহ নানা কারণে রাজধানীতে ক্রমাগত মানুষের চাপ বাড়ছে। তবে সঠিক কাঠামোর অভাবে সবার জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই হচ্ছে না। অনেকেই বস্তি, ফুটপাত, এমনকি বাস, লঞ্চ ও ট্রেনস্টেশনে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

আবাসন বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানীতে ভাড়া বাসায় বসবাস স্বাভাবিক হলেও নিজস্ব আবাসন ও ভাড়া বাসার এই ভারসাম্যহীনতা অত্যন্ত প্রকট। ঢাকায় ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের নিজস্ব বাসস্থান নেই, যার মধ্যে বিপুলসংখ্যক নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং বস্তিবাসী রয়েছেন। এসব মানুষের মূল আয়ের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশই আবাসন খাতে ব্যয় হয়ে যায়।

সরকারি পর্যায় থেকে যথাযথ ও কার্যকরী আবাসন নীতি এবং স্বল্প সুদে ঋণের অভাবের কারণেই তারা যুগের পর যুগ নিজস্ব ঠিকানা তৈরি করতে পারছেন না। এই ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য জমি বরাদ্দ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে স্বল্পমূল্যের আবাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকারি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে উচ্চ, মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভূমি উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আবাসিক প্লট তৈরি করে বরাদ্দ দেওয়ার কর্মসূচির তথ্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং স্বল্প খরচে টেকসই ঘর তৈরির কলাকৌশল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও বিপণনের কাজ চলছে। এ ছাড়া গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ৩ হাজার ৫১৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মিরপুরের ৯ নম্বর সেকশনে ১৫টি ১৪ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প।