রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’: ট্রাম্প

0
রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে হামলার প্রাণঘাতী ঘটনাকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো ভয়াবহ এই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মর্মান্তিক এই হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে রক্তক্ষয়ী এ হামলার জন্য সরাসরি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী হুতি গোষ্ঠীকে দায়ী করা হচ্ছে।

উদ্ভূত উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, এ হামলার সুনির্দিষ্ট পরিপ্রেক্ষিতে তিনি খুব শীঘ্রই সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলবেন।

পরিস্থিতির ওপর ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘সৌদি আরবে যা ঘটেছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।’

অন্যদিকে সৌদিতে সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে মার্কো রুবিও লিখেছেন, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের নিন্দনীয় হামলাগুলো নিরপরাধ নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞারই প্রকাশ। এই বর্বরোচিত আক্রমণগুলো এখনই চিরতরে বন্ধ হতে হবে।

সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী। রিয়াদ, সৌদি আরব, ৮ অক্টোবর।। ছবি: সংগৃহীত

তাছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও নিশ্চিত করে জানান, রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো উক্ত হামলায় একজন মার্কিন নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন।

একই সময়ে ইয়েমেন–বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গও সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরে পরিচালিত এই প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গতকাল তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দরগুলোয় এই জাতীয় প্রাণঘাতী হামলা চালানো হুতিদের পক্ষ থেকে মূলত যুদ্ধের সার্বিক পরিস্থিতির অত্যন্ত গুরুতর অবনতি ঘটানোরই শামিল।

প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে, মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতার চলমান ক্ষতিকর চক্রকে দীর্ঘায়িত করে এবং দীর্ঘদিনের ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে।

উল্লেখ্য, গতকালের চাঞ্চল্যকর এই রক্তক্ষয়ী হামলায় অন্তত ৩০৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে ইয়েমেনি হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সরাসরি এ হামলার পূর্ণ দায় স্বীকার করেছেন।

হুতি কর্মকর্তা আল-বুখাইতি দাবি করেন, ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অব্যাহত হামলার পাল্টা উপযুক্ত জবাবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ইয়েমেনে সৌদির হামলায় সাধারণ মানুষের বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ তোলেন আল-বুখাইতি।

এদিকে হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিরূপণের কাজ জোরকদমে চলছে। চরম নিরাপত্তার স্বার্থে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কারণে সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা রাখা হয়েছে।