সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্য ১০০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি এনইসির

0

লোকসমাজ ডেস্ক: সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যবৃদ্ধি করে সম্প্রতি জারি করা পরিপত্রকে অপ্রতুল ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে তা পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)। সংগঠনটির সভাপতি ও যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সংবাদপত্রে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করে একটি পরিপত্র জারি করেছে। এর আগে সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে, অর্থাৎ প্রায় সাত বছর আগে। প্রকৃতপক্ষে ওই মূল্যহার নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল ২০০৬ সালে, যা প্রস্তাবনার ১৩ বছর পর ২০১৯ সালে বাস্তবায়িত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিজ্ঞাপনের মূল্যহার আর সমন্বয় করা হয়নি। এ সময়ে প্রকাশনাশিল্পের ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে এবং কয়েক দফায় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিউজপ্রিন্ট, কালি ও অন্যান্য প্রকাশনাসামগ্রীর দাম দফায় দফায় বাড়লেও ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার বাড়ানো হয়নি। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনের নেতা, সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের কয়েক দফা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকগুলোতে সংবাদপত্রশিল্পের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সরকারি বিজ্ঞাপনের সর্বনিম্ন মূল্য প্রতি কলাম ইঞ্চি ৯০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল্য ৩ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৩ অক্টোবর বিজ্ঞাপনের মূল্যহার নির্ধারণ করে জারি করা পরিপত্রে প্রস্তাবের তুলনায় অনেক কম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে এনইসি।

সংগঠনটি মনে করে, সংবাদপত্রের শ্রেণিভেদে বিজ্ঞাপনের মূল্যহার ২২ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব মোটেই বাস্তবসম্মত নয়। এতে সংবাদপত্রশিল্পের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এ অবস্থায় বর্তমান ব্যয় বিবেচনায় সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার ২২ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এনইসি।

পাশাপাশি রঙিন বিজ্ঞাপন এবং সংবাদপত্রের প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রযোজ্য অতিরিক্ত মূল্যহার বাড়ানো সম্ভব না হলেও তা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।