র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে যবিপ্রবিতে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

0
র‌্যাগিংয়ের অভিযোগে যবিপ্রবিতে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
প্রতীকী এআই ছবি- লোকসমাজ

যবিপ্রবি সংবাদদাতা, লোকসমাজ : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের চার ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রোববার দিবাগত রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝির ফল বলে দাবি করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় আইপিই বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক, প্রক্টর, পরিবহন পরিচালক এবং বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আইপিই বিভাগের প্রথম বর্ষের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাত ১টার দিকে তাঁদের কয়েকজনকে ইমিডিয়েট সিনিয়ররা শহীদ মিনারে ডেকে নেন। সেখানে প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন সিনিয়র শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁদের দিয়ে শহীদ মিনার থেকে লাইব্রেরি ভবন পর্যন্ত দৌড়ানো এবং পুশ-আপ দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজ করানো হয়, যা তাঁরা র‌্যাগিং হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তাঁদের দাবি, এসব করতে অস্বীকৃতি জানালে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁদের সহপাঠী অনিককে একজন সিনিয়র শিক্ষার্থী চড়-থাপ্পড় দেন। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী চিকন বাঁশ দিয়ে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, এর আগেও তাঁদের নিয়মিত র‌্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সারারাত ধরে এ ধরনের আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

তবে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান মাহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা আগে থেকেই শহীদ মিনারে বসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। পরে প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়। একপর্যায়ে তিনি একজন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে নিয়ে কিছুটা দূরে যান। ফিরে এসে দেখেন সেখানে মারামারি শুরু হয়েছে এবং তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাঁদের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মারতে আসছেন।

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, তাঁদের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সরাসরি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। জুনিয়রদের মধ্যে ঝামেলার খবর পেয়ে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন।

অন্যদিকে চতুর্থ বর্ষের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝামেলার খবর পেয়ে তাঁরা শহীদ মিনারে যান। তাঁদের মতে, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা করা হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিল আল ফাহিম জানান, রাত ১টার দিকে শহীদ মিনার এলাকা থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে তিনি দেখেন, প্রধান সড়কের দুই পাশে দুই দল শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এক পাশে প্রথম ও তৃতীয় বর্ষের এবং অপর পাশে দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে আইপিই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. মো. সুমন রহমান বলেন, “এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে আশা করছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, “আমরা বিভাগের সব ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে প্রাথমিকভাবে ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছি। বিভাগের শিক্ষকেরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকের পর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন বা আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কি না, তা সোমবার রাত পর্যন্ত জানা যায়নি।