গরমে জনসমাগম কমেছে বেনাপোল বন্দরে

0
ছবি: সংগৃহীত।

মো. কামাল হোসেন, বেনাপোল॥ তাপদাহে হাঁসফাঁস অবস্থা দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের মানুষের। রোদ আর ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সীমান্ত এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন। দুপুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বেনাপোল বাজার, পোর্ট এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন বন্দরের শ্রমিক, ট্রাকচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরেরা।

যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার বিকেল তিনটার সময় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৮ শতাংশ। আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। অনেকের কাছেই এই গরম ৪১ থেকে ৪২ ডিগ্রির মতো অনুভূত হচ্ছে।

টানা কয়েকদিন ধরেই দেশের উষ্ণতম জেলার তালিকায় রয়েছে যশোর। এর প্রভাব পড়েছে সীমান্ত শহর বেনাপোলেও। বিশেষ করে খোলা জায়গা ও পিচঢালা সড়কে গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।

দুপুরের পর বেনাপোল চেকপোস্ট, পোর্ট গেট, বাজার এলাকা, বড়আঁচড়া সড়ক ও বন্দরের আশপাশে মানুষের চলাচল অনেকটাই কমে যায়। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের অনেকের হাতেই দেখা গেছে ছাতা, পানির বোতল কিংবা ভেজা গামছা।

বেনাপোল বন্দরের শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরের সময় কনটেইনারের পাশে দাঁড়ানোই যায় না। গরম লোহার মতো হয়ে থাকে। কাজ করতে গিয়ে বারবার পানি খেতে হচ্ছে।

ট্রাকচালক আব্দুল হান্নান বলেন, রাস্তায় গরম বাতাসে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কেবিনের ভেতরও প্রচন্ড গরম লাগে। একটু পরপর থেমে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।

বেনাপোল পৌর এলাকার ভ্যানচালক জসিম উদ্দিন বলেন, গরমে যাত্রী কমে গেছে। কিন্তু বসে থাকলে সংসার চলবে না। তাই কষ্ট হলেও রাস্তায় নামতে হচ্ছে।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল জানান, তীব্র গরমের কারণে যশোর জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে জ্বর, পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া ও হিটস্ট্রোকজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।