প্রতারণার মাধ্যমে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক সেনা সদস্যের ৩ বছর কারাদণ্ড

0
ছবি: সংগৃহীত।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে প্রতারণার মাধ্যমে ২৪ লাখ টাকা আত্মাতের অপরাধে সাবেক সেনা সদস্য রফিকুল ইসলামকে ৩ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সাথে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। সোমবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা এই রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামি রফিকুল ইসলাম নড়াইলের লোহগাড়া উপজেলার রাহুপুর গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, রফিকুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান সাকিব ও স্ত্রী মনিরা আফরিন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, যশোর শহরের পুরতান কসবা বিবি রোডের বাসিন্দা ইকরামুজ্জামান সেনাবাহিনীদের চাকরির সুবাদে কুয়েতে মিশনে যান। মিশনে থাকা অবস্থায় নড়াইলের রফিকুল ইসলাম, সাতক্ষীরার মনির হোসেন ও পটুয়াখালীর মইনুল হোসেনের সাথে তার পরিচয় হয়। ইকরামুজ্জামান কুয়েতে সেনাবাহিনীতে কর্মরত অপর বাংলাদেশি সেনা সদস্যদের বেতন উত্তোলন করে ইকরামুজ্জামান তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন।

এরপর তার স্ত্রী বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সেই সেনা সদস্যদের পরিবারের কাছে টাকা পাঠিয়ে দিতেন। একইভাবে রফিকুল ইসলামও বাংলাদেশি সেনা সদস্যদের বেতনের টাকা তুলে দেশে পাঠাতেন।

পরবর্তীতে রফিকুল ইসলাম তার পরিচিত সেনা সদস্যদের বেতনের টাকা তুলে ইকরামুজ্জামানের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে শুরু করেন। এরই মধ্যে ইকরামুজ্জামানের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি দেশে টাকা পাঠানো নিয়ে সমস্যায় পড়েন।

এ সময় রফিকুল ইসলাম তাকে তার ছেলে মেহেদী হাসান সাকিবের ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠাতে বলেন। ইকরামুজ্জামন সরল বিশ্বাসে রফিকুল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান সাকিবের ব্যাংক হিসাবে ২৪ লাখ টাকা পাঠান। কিন্তু মেহেদী হাসান সাকিব কুয়েত থেকে পাঠানো টাকা সেনা সদস্যদের পরিবারকে না দিয়ে আত্মসাত করেন।

বিষয়টি কুয়েতে জানাজানি হলে ইকরামুজ্জামানসহ ১৩ জনকে দেশে পাঠিয়ে দেয় কুয়েত সরকার।

ইকরামুজ্জামান দেশে এসে রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা না দিয়ে ঘোরাতে থাকেন। ফলে টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে রফিকুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী ও ছেলেকে আসামি করে যশোরে আদালতে মামলা করেন।

ওই মামলায় আসামি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে উল্লিখিত সাজা প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।