মণিরামপুরের ঝাঁপা বাওড়ে আবর্জনা ফেলায় দূষিত হচ্ছে এলাকা

0

 

ওসমান গণি. রাজগঞ্জ (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর নির্মিত দুটি ভাসমান সেতুর পাশে তৈরি হয়েছে বর্জ্যরে স্তুুপ। ময়লা আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে ভাসমান সেতু পারাপারে মানুষকে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একই সাথে এলাকা দূষিত হওয়ার কারণে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বাঁওড় পাড়ের বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানান, ঝাঁপা বাঁওড় সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে রাজগঞ্জ বাজার। প্রাচীনতম এ বাজার ঘিরে যেমন গড়ে উঠেছে দোকানপাট, কলকারখানা তেমনি বাঁওড়ের দুই পাশে রয়েছে কয়েক হাজার বসতি। দীর্ঘদিন ধরেই রাজগঞ্জ বাজারসহ দুই পাড়ের দোকানপাট ও বাসাবাড়ির গৃহস্থালি বর্জ্য, গরু ছাগলের বর্জ্যসহ নানা ধরণের বর্জ্য বাওড়ের তীর ঘেঁষে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া কসাই খানার গরু ছাগলের রক্ত বর্জ্য ও পোল্ট্রির মুরগির বর্জ্যতে তৈরি হয়েছে ময়লার ভাগাড়।
দেশের বৃহত্তর এ ভাসমান সেতু দু’টি দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করে। এছাড়া ছুটির দিনে এ দুটি ভাসমান সেতুর ওপর দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তারা বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের বর্জ্য, প্লাস্টিকের দ্রব্যাদি সবই ফেলছে বাঁওড় পাড়ে। এসব বর্জ্য মিলিয়ে এক ক্ষতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
বাঁওড়ের পাড়ে বসবাসকারী ডা. পরিমল কুমার সাধু, মাস্টার মাছুদ কামাল তুষার, কুচোন কুমার সাধু, ওয়াসিম কুমার সাধু, ডা. আব্দুস সালাম ও মুকুল হোসেন জানান, বাঁওড়ে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে পচা দুর্গন্ধে তাদের বসবাস করা মুস্কিল হয়ে পড়েছে।
রাজগঞ্জ এলাকার আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, রাজগঞ্জ বাজারসহ বাঁওড়ের দুই পাড়ে গড়ে ওঠা দোকানপাটের বর্জ্য বাঁওড়ের পানির সঙ্গে মিশে পানিও দূষিত হয়ে পড়ে মারা যাচ্ছে মাছ। আগে এ এলাকার মানুষ বাঁওড়ের পানি দিয়ে রান্না ও গোসলসহ যাবতীয় কাজ করতো। কিন্তুু এখন সেই বাওড়ে বর্জ্য ফেলার কারণে পানিতে নামাই যায়না।
ভাসমান সেতু পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মেহেদি হাসান টুটুল জানান, ভাসমান সেতু দেখতে দর্শনার্থীরা যাতে ঝাঁপা বাওড়ের পানিতে ময়লা আবর্জনা না ফেলে সে জন্য ভাসমান সেতুর ওপর প্লাষ্টিকের ঝুড়ি দিয়ে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা সকল ময়লা আবর্জনা ঝুড়িতেই ফেলছে।
বাওড় পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু দুলাল কুমার জানান, বৃহত্তর ঝাঁপা বাঁওড়ে দুই ভাসমান সেতুর দর্শনার্থী ও রাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীদের অব্যাহতভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে মাছ মারা যাচ্ছে। বাঁওড় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সুফল পাননি।
রাজগঞ্জ বাজার উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ জানান, বাজারের আশপাশে কোথাও ময়লা আবর্জনা রাখার স্থান না থাকায় ঝাড়–দারসহ বাজারের ব্যবসায়ীরা ঝাঁপা বাঁওড়ের পাশেই ময়লা আবর্জনা ফেলে আসছে।
এ ব্যাপারে ঝাঁপা ইউপির চেয়ারম্যান, শামছুল হক মন্টু জানান, ভাসমান সেতু তৈরি হওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্টদের অনেকবার বলা হয়েছে যে ঝাঁপা বাঁওড়ে বর্জ্য না ফেলতে। সেই সাথে বাজারের ব্যবসায়ীদেরকেও সর্তক করা হয়েছে। তবে বৃহত্তর ঝাঁপা বাওড় রক্ষার্থে দ্রুত বাজারও সেতু কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় বসা হবে।