চাকরির জন্য ছাত্রদল বা বিএনপি করা লাগবে না, যোগ্যতাই হবে একমাত্র শর্ত: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0
ছবি: লোকসমাজ।

মাসুদ রানা বাবু ॥ যশোরে তরুণ যুবকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখালেন যশোর- ৩ (সদর ) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। চাকরির প্রথম শর্ত হবে মেধা এবং যোগ্যতা। চাকুরির জন্য কাউকে ছাত্রদল করা লাগবে না এমনকি বিএনপির পরিবারের সদস্য হতে হবে না। তরুন-যুবকদের দীর্ঘ দিনের বিভিন্ন সংকট সমস্যা সমাধানে পাশাপাশি আগামী দিনে তাদের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকার করেন।

সোমবার শহরের পৌর উদ্যোনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরের তরুণ ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেন। সেখানে তরুণ যুবকরা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে দীর্ঘ দিনের সংকট সমস্যা এবং আগামী দিনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। আগামী দিনে সুযোগ পেলে তাদের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকার করেন। রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যের বাইরে নিজ উদ্যোগে তরুণ-যুবকদের জন্য কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তারা আগামী দিনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মেধাযোগ্যতার ভিত্তিতে চাকুরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সীমান্ত সুরক্ষা, যশোরের স্বাস্থ্য অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, মাদক সন্ত্রাস রোধসহ বিভিন্ন বিষয় কথা বলেন।

বিগত ১৭ বছর অনেকে তরুণদের নিজে ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজে লাগিয়েছে আপনি সেই কাজটি করবেন কি না? এমন প্রশ্নে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমি তরুণদের বাংলাদেশ পুর্ণগঠনের কাজে ব্যবহার করবো। আমি নির্বাচিত তরুন-যুবকদের নিয়ে আবার বসবো। তাদের সকল সংকট সমস্যা সমাধান এবং প্রত্যাশা পূরনের লক্ষ্যে একটি অগ্রধিকার তালিকা তৈরি করবো। অগ্রাধিকার তালিকার ভিত্তিতে কাজ করবো।

নকল মুক্ত পরিবেশ এবং চাকুরি পরীক্ষা অনিয়ম প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিএনপি অতীতে সরকারে থাকা অবস্থায় নকলের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিল। এর মুল কারণ ছিল দেশের মেধাবীরা যেন কোন ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ না হয়। তাদের মেধাকে সংরক্ষণ কিংবা সুরক্ষা দেবার জন্য আমাদের এই উদ্যোগ ছিল।

বিএনপির সময় লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নে ফাঁসের অভিযোগ কখনোই ওঠেনি। কিন্ত তার আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নকলের ভয়াবহতা ছিল। একই সাথে চাকুরি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ অনিয়ম দুর্নীতি ছিল।

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোটার বিরুদ্ধে আমাদের নেতা তারেক রহমান ২০১৪ প্রথম কথা বলেছিলেন। মেধা কোন দিন কোটা থেকে কম হতে পারে না। এই কথা টি প্রথমে তিনি বলেছিলেন।

আমরা চাকুরির বাজার উন্মুক্ত করতে চাই। যেখানে চাকুরিতে প্রবেশের প্রথম শর্ত হবে মেধা এবং যোগ্যতা। এই কথাটি তারেক রহমান বলছেন। তার পিতা জিয়াউর রহমান এবং মাতা বেগম খালেদা জিয়ার সময় লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে এটা কেউ বলতে পারবে না।

আমি তরিকুল ইসলামের সন্তান হয়ে বলছি বিগত দিনে আমার পিতা তোমাদের (তরুণ-যুবক) বাবা মায়ের ভোটে নির্বাচিত হয়ে চারবার এমপি মন্ত্রী হয়েছিলেন তখন তিনি চাকরির দেওয়ার বিনিময়ে কারও কাছ থেকে এক কাপ চাও পর্যন্ত খাননি। এটা তার কঠোর সমালোকরাও বলতে পারবে না। আগামীতেও মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি হবে। চাকরির জন্য কাউকে ছাত্রদল করা লাগবে না কিংবা বিএনপি পরিবারের সদস্য হওয়া লাগবে না।

বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ সহজ করতে এবং কমংস্থান নিশ্চিত করতে স্কুল পর্যায় থেকে তৃতীয় ভাষা চালু করা হবে। কারিগারি কোর্স চালু করা হবে। ক্রীড়া পেশা হিসেবে নিতে চতুর্থ শ্রেণী থেকে গেমস টিচার নিয়োগ দেওয়া হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, অতীতে বিএনপি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল সন্ত্রাস এবং দলীয় করণ মুক্ত। আমরা পূর্বের সেই ধারাবাহিকতায় ফিরে যেতে চাই। সকলের জন্য নিরাপদ শিক্ষাঙ্গণ তৈরি করবো।

ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি সাধারন শিক্ষার্থীদের নিপীড়নের কারণ হতে চায় তাহলে তোমরা (শিক্ষার্থী) যে কোন মুহুর্তে আমাকে জানাবে। আমি তাকে সর্বোচ্চ আইনের আওতায় আনবো। এই যশোরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির পেছনে আমার প্রয়াত পিতা তরিকুল ইসলামের অবদান আছে। দীর্ঘ উন্নয়ন বঞ্চিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত নানা সমস্য আছে। আমি আগামী দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ আবাসন পরিবহন সংকট নিরসনে কাজ করবো। ছাত্রাবাসগুলো যে নানা সমস্যা আছে আমি নিজ উদ্যেগো সেগুলো সমাধান করবো।

নারীদের সুরক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশের নারীর সমাজের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। তারা নারীদের সুরক্ষার পাশাপাশি নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করেছিলেন। আমরা আগামী দিনে সেটি অব্যহত রাখতে চাই। কিন্তু আমরা তো নারীদের নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়। আমরা বিশ^াস করি নারীদের বাইরে রেখে দেশ এগিয়ে যেতে পারে না।

সীমান্ত সুরক্ষার বিষয় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিএনপি অতীতে যখন দেশ পরিচালনায় ছিল তখন দেশের সকল সীমান্ত সুরক্ষা ছিলো। মাদক অস্ত্র কিংবা চোরাচালানি বন্ধ ছিল। যশোর সীমান্তবর্তী এলাকা সে কারণে আমরা ঝুকির মুখে থাকি। যশোরের মানুষের কাছে আমার অঙ্গীকার নির্বাচিত হয়ে আসতে পারি, এই অঞ্চলকে সন্ত্রাস এবং মাদক মুক্ত করবো। তার জন্য সীমান্তে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থা জারি করা হবে।

যশোরের হারানো রাজনৈতিক ধর্মীয় এবং সামাজিক ঐতিহ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যশোরে জন্মেছি। যশোরের আলো বাতাসে বেড়ে উঠেছি। যশোরের রাজনৈতিক ধর্মীয় এবং সামাজিক ঐতিহ্য গেল ১৭ বছর সুপরিকল্পিত ভাবে নষ্ট করা হয়েছে। আমরা পরস্পরের বন্ধু, স্বজন কিংবা আত্মীয় হয়ে থাকতে পারিনি।

রাজনীতিকে সামনে একে অপারের প্রতিপক্ষ বানানো হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং মত পথের মানুষকে একত্রিত করে। থেকে যশোরের হারানো সৌহার্দ্য, সম্প্রীতিময় ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সহবাস্থান ফিরিয়ে আনতে চাই।

সামাজিক সুরক্ষার বিষয় তিনি বলেন, যশোরকে মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মুক্ত করা রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আমার পরিবারের কোন সদস্য কিংবা রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ নেতাও যদি জনগণের সামান্য কষ্টের কারণ হয় তার জায়গা হবে কারাগারে। যুবক সমাজের বিপথগামী ঠেকাতে ক্রীড়াঙ্গন এবং সামাজিক অঙ্গনকে সচল করবো। সুস্থ বিনোদন চালু করবো।

যশোরের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার পিতা ১০০ শয্যার হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা উন্নীত করেন। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান আজ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। এজন্য আমার পিতার তৈরি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তৈরি করবো। আমার পিতার হাতে তৈরি করোনারী কেয়ার ইউনিট দীর্ঘ ১৭ বছরের পূূর্ণতা পায়নি। আমি যশোরবাসীর হৃদরোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে করোনারী কেয়ার ইউনিট পূর্ণরূপ দেবো।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, কৃষি প্রধান এলাকা যশোরের কৃষি বিশ^বিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি সবজি সংক্ষরণে জন্য একটি বিশেষায়িত হিমাগার তৈরি প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, যশোরে একটি আইটি পার্ক আছে। এটি রাষ্ট্রের সম্পদ। আমরা এই সম্পদকে যথাযথ কাজে লাগাতে চাই। আমি কিছু আগে পরিদর্শন করেছি। ইতিমধ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। কিভাবে সেটি কাজে লাগিয়ে তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। সেই কাজটি করতে চাই।