তারেক রহমানের মুখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুনতে উন্মুখ যশোরবাসী

0
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আকরামুজ্জামান ॥ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির রূপরেখার পাশাপাশি যশোরের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়ে আজ যশোরবাসীর দৃষ্টি নিবদ্ধ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভার দিকে।

যশোর শহরতলীর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই সভা তারেক রহমানের যশোরে প্রথম কোনো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

যশোরের সবথেকে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা ভবদহ। অভয়নগর, কেশবপুর ও মণিরামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত। বর্ষা মৌসুম এলেই কৃষিজমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ছে।

অতীতের বিভিন্ন সরকার ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে তারেক রহমান আজ তার ভাষণে ভবদহ ইস্যুতে কী ধরনের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন, সেটিই এখন এই জনপদের মানুষের প্রধান আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

ভবদহের পাশাপাশি কৃষিপ্রধান এই জেলায় সবজি সংরক্ষণের অভাব একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। যশোর দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদনকারী এলাকা হলেও পর্যাপ্ত হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় তারা পানির দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন। কৃষি অর্থনীতিকে টেকসই করতে এই খাতে সরকারিভাবে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আজকের বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আশা করছেন কৃষকরা। চুড়ামনকাটি এলাকার আদর্শ চাষি হযরত আলী বলেন, দেশের সবজি জোন হিসেবে পরিচিত যশোরের মূল সমস্যা হিমাগারের অভাব। আমার বিশ্বাস, তারেক রহমান এ বিষয়ে তাঁর ভাষণে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেবেন।

শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও যশোর অনেকটাই পিছিয়ে। ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বড় শিল্পকারখানা কিংবা পরিকল্পিত শিল্পনগরী গড়ে ওঠেনি। ফলে কর্মসংস্থানের অভাবে এখানকার তরুণদের বড় একটি অংশ অন্য জেলায় কিংবা বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছে। যশোরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, সেটিও আজকের সভায় উঠে আসতে পারে।

এ বিষয়ে যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ মিজানুর রহমান খান বলেন, তারেক রহমান দেশের যে অঞ্চলেই সফরে যাচ্ছেন, সেখানেই মানুষের মৌলিক সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরছেন। আমার বিশ্বাস, যশোরের সমাবেশ থেকেও এসব বিষয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলবেন।

এছাড়া যশোর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার দাবিও দীর্ঘদিনের। জনসংখ্যা, আয়তন ও নাগরিক সেবার চাহিদা বিবেচনায় যশোর অনেক আগেই সিটি কর্পোরেশনের যোগ্যতা অর্জন করেছে বলে মনে করেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সিটি কর্পোরেশন হলে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক নাগরিক সেবা এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে-এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় যশোরে মাদক ও সন্ত্রাস দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। নদী ও খাল খননের বিষয়টিও জনমানুষের প্রত্যাশার তালিকায় রয়েছে; বিশেষ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি যশোর অঞ্চলে এখনও স্মরণীয়। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে নতুন করে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের কাছে এ অঞ্চলের সমস্যা ও প্রত্যাশিত উন্নয়ন নিয়ে একটি লিখিত তালিকা তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, তারেক রহমানের কাছে যশোরের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে একটি লিখিত প্রস্তাবনা তুলে দেওয়া হবে, যেখানে ভবদহ সমস্যাসহ প্রধান ইস্যুগুলো অগ্রাধিকার পাবে।

সব মিলিয়ে, যশোরে তারেক রহমানের এই রাজনৈতিক উপস্থিতি শুধু একটি জনসভা নয়; বরং এটি যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আগামীর সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আজকের ভাষণ থেকে আসা প্রতিশ্রুতিই বলে দেবে, আগামী দিনে যশোরের উন্নয়নের পথরেখা কী হবে।