এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তিতে ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক বিষবাষ্প; টার্গেটে তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ

0
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় অপপ্রচারকারী চক্র; এক সপ্তাহে তারেক রহমানকে নিয়ে ২৯টি ভুয়া তথ্য শনাক্ত।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ক্ষণগণনা যত ঘনিয়ে আসছে, সাইবার স্পেসে রাজনৈতিক চরিত্র হননের অপচেষ্টা ততই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। রিউমর স্ক্যানার, ফ্যাক্ট ওয়াচ, ডিসমিসল্যাব, বাংলা ফ্যাক্ট ও দ্য ডিসেন্ট-এর যৌথ ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সাত দিনে বাংলাদেশে ১৯০টি ভুয়া তথ্য বা গুজব ছড়িয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এর মধ্যে ৯৩টিই সরাসরি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তারেক রহমানকে নিয়ে শনাক্ত হওয়া ২৯টি ভুয়া তথ্যের অধিকাংশ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে তারেক রহমানের কণ্ঠ বিকৃত করে তৈরি করা ডিপফেক ভিডিও এবং সংবাদমাধ্যমের লোগো নকল করে তৈরি করা ভুয়া ফটোকার্ড অন্যতম। বিশেষ করে তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানের বিয়ে নিয়ে একটি বানোয়াট ফটোকার্ড এবং তারেক রহমানের জুতার ছবি এডিট করে ‘ছেঁড়া জুতা’ বলে প্রচার করার মতো ঘটনাগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ছাড়াও এআই-এর মাধ্যমে তারেক রহমানের ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টাও শনাক্ত হয়েছে।

তারেক রহমানের পর সবচেয়ে বেশি গুজবের শিকার হয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা (৯টি), জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান (৭টি) এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (৬টি)। এ ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে নিয়েও একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড ও ভিডিও শনাক্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন দেশের পুরোনো ও অপ্রাসঙ্গিক ভিডিওকে বর্তমানের দাবি করে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন ঘিরেও চলছে তথ্য সন্ত্রাস। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাতিল হওয়া সংক্রান্ত ড. ইউনূসের একটি এডিট করা ভিডিও এবং ‘জাতিসংঘের জরিপে বিএনপি ২৪০ আসন পাবে’-এমন কাল্পনিক তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এমনকি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের নামেও বানোয়াট লেখা দিয়ে ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে। এসব অপপ্রচারে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার প্রবল ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন তথ্য বিশ্লেষকরা।