কারামুক্ত বাগেরহাটের সাদ্দাম কারা কর্তৃপক্ষের লুকোচুরি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম কারামুক্ত হয়েছেন। হাইকোর্টের আদেশে জামিন পাওয়ার পর বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে মুক্তির খবর জানাতে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে লুকোচুরি করেন কারাকর্তৃপক্ষ।

বুধবার সকালের দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর আবিদ আহম্মেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘উচ্চ আদালতের আদেশের কাগজপত্র হাতে পেলে তা যাচাই-বাছাই শেষে আইন অনুযায়ী তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।’ তবে মুক্তির সুনির্দিষ্ট সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কারাগারের আশপাশে অবস্থানরত সূত্রগুলো জানায়, মিডিয়ার উপস্থিতি এড়িয়ে সাদ্দামকে কারাগার থেকে বের করে দেওয়া হয়। মুক্তির পরপরই তিনি একটি মাইক্রোবাসে উঠে যশোর ত্যাগ করেন। কারাগার এলাকা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিজ এলাকার দিকে রওনা হন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে এদিন দুপুর খেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর, জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকেই পাওয়া যায়নি। তারা কেউই ফোন রিসিভ করেননি। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে অপেক্ষায় থেকে ফিরে যান সাংবাদিকরা।

সন্ধ্যার পর জানা যায় কারাগারের জেল সুপারের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার আসিফ উদ্দীন কয়েক জন সাংবাদিককে জানিয়েছেন, দুপুর ২টার দিকে সাদ্দামকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সাদ্দামের পরিবারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একবার ফোন রিসিভ করে বলেন, আমরা চুকনগর পার হচ্ছি। এটুকু বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে দফায় দফায় তার মোবাইলে কল দেওয়া হলেও তিনি আর কথা না বলে বারবার ফোন কেটে দেন।

উল্লেখ্য, মানবিক বিবেচনায় হাইকোর্ট সাদ্দামকে ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মোট সাতটি মামলার সর্বশেষ মামলাতেও তিনি জামিন লাভ করেন। দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা অবস্থায় গত ২৩ জানুয়ারি বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী ও নয় মাস বয়সী শিশুপুত্রের মরদেহ উদ্ধার হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় তাকে প্যারোল আবেদন করলেও জামিন দেয়া হয়নি।

তবে যশোরের জেলা প্রশাসন জানায়, পরিবারটি তার জামিনের জন্য কোনো প্যারোল আবেদন না করে মরদেহ নিয়ে জেলগেটে আসেন। পরে মানবিক বিবেচনায় জামিন প্রশ্নটি নতুন করে সামনে আসে এবং হাইকোর্ট তাকে ৬ মাসের জামিন দেয়।