মা ইলিশ রক্ষায় সেনাবাহিনী

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদী ও আশপাশের এলাকায় মা ইলিশ রক্ষায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনীর একটি দল।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৯ মে জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী গঠিত ৪০ সদস্যের টাস্কফোর্স কমিটিতে সেনা বা নৌবাহিনীর কোনো প্রতিনিধি ছিল না। ফলে এবারই প্রথমবারের মতো মা ইলিশ রক্ষায় সেনাবাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে।

মেঘনা তীরের শান্তিরবাজার, চর বাউসিয়া ও বোম্বে শহরসংলগ্ন নদী ও খালে পরিচালিত অভিযানে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ১২টি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। অভিযানে সেনাবাহিনী ছাড়াও অংশ নেয় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড হিজলা ও নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি হিজলার সদস্যরা।

যৌথ অভিযানের নেতৃত্ব দেন সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মারুফুল ইসলাম, কোস্ট গার্ডের মাসুদ এবং হিজলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম।

মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘এবারের অভিযান আগের চেয়ে কঠোর ও সমন্বিত। মা ইলিশ সংরক্ষণে সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ একটি বড় পদক্ষেপ।’

অভিযানের পর গ্রেপ্তার হওয়া জেলেদের সঙ্গে সেনা সদস্যদের ফটোসেশনও চোখে পড়ে। তবে অভিযানের বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ মৎস্য শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিক অধিকার ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাকির হোসেন বলেন, ‘জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় প্রয়োজনে সেনা ও বিমানবাহিনীকে মাঠে নামিয়ে অভিযান আরো জোরদার করতে হবে। অবৈধভাবে মা ইলিশ আহরণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের প্রত্যেকে ৬০ কেজি চাল ও ৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দিতে হবে, যেন তারা জীবিকার বিকল্প খুঁজে পায়।’

এদিকে, হিজলার মেঘনা পাড়জুড়ে এখন অভিযান চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের আশা, এবারের কঠোর অভিযানে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম দিতে পারবে, ফলে বাড়বে ইলিশের উৎপাদনও।