চুয়াডাঙ্গা বিজিবির মানবিক দৃষ্টান্ত

0

রিফাত রহমান,চুয়াডাঙ্গা॥ ভারতীয় নাগরিক মা। আর মেয়ে নাগরিক বাংলাদেশের। প্রতিবেশী দেশের নাগরিক মায়ের মৃত্যু হয়েছে ভারতে। আর মেয়ে রয়েছেন বাংলাদেশে। কিন্তু ভারতে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। মা ও মেয়ে দুদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দা।

এ খরব বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ কর্মকর্তাদের কানে পৌঁছে যায়। এরপর বিজিবি সদস্যরা মানবিকতার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মৃত বৃদ্ধাকে শেষ বারের মতো দেখার সুযোগ করে দেন বাংলাদেশে বসবাসরত পরিবারকে। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এ মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর সীমান্তের শূন্য রেখায় মাকে দেখার ব্যবস্থা করেন বিজিবি সদস্যরা।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, জগন্নাথপুর বিওপি এলাকার সীমান্তের মেইন পিলার ৯৬/৮-এসের বিপরীতে ১৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোংরা বিএসএফ ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক নদিয়া জেলার চাপড়া থানার গোংরা গ্রামের ফকির চাঁদের স্ত্রী মরহুমা লোজিনা বেগম (৮০) নিজ বাড়িতে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে ইন্তিকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

ভারতীয় নাগরিকের মেয়েসহ নিকট আত্মীয়রা জগন্নাথপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা বাংলাদশের জয়পুর গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। ভারতীয় ভূখন্ডে মুত্যুবরণকারী মাকে দেখতে বাংলাদেশে বিয়ে সূত্রে বসবাসরত মেয়ের শেষ দেখার অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিজিবি-বিএসএফের সমন্বয়ে মানবতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মরহুমার নিকট আত্মীয় স্বজনদের উপস্থিতিতে সীমান্তের মেইন পিলার ৯৬/৮-এস-র নিকট শূন্য লাইনে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

লোজিনা বেগম মৃত্যুকালে ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থ থাক অবস্থায় সোমবার (২ জুন) রাতে নিজ বাড়িতে ইন্তিকাল করেন তিনি। তার দু মেয়ে বিয়ে সূত্রে স্বামী সন্তান নিয়ে বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।