যশোরে নিখোঁজ রেজাউলের লাশ উদ্ধার আশাশুনিতে, আটক যুবকের স্বীকারোক্তি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিখোঁজের এক মাস ৪ দিন পর যশোর শহরের শংকরপুর ইসহাক সড়কের দর্জি রেজাউল ইসলামের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বিকেলে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার লাঙলা দক্ষিণ একসরা গ্রামের একটি বাগানে পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় জড়িত রবিউল ইসলাম সবুজ ও রিপন হাওলাদারকে আটকের পর তাদের স্বীকারোক্তিতে পুলিশ দর্জি রেজাউল ইসলামের লাশটি উদ্ধার করে। জমি ক্রয় করে দেওয়ার কথা বলে রেজাউলের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া ১৪ লাখ টাকা হজম করার জন্য তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে সবুজ ও যশোর শহর থেকে রিপনকে আটক করে পুলিশ।

আটক সবুজ সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার তালতলা বাজার কুড়ি কাওনিয়া এলাকার হবি গাজীর ছেলে। যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার জনৈক কামরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। অপর আটক রিপন যশোর শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি একই এলাকায় শ্বশুর জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে থাকেন।

নিহত রেজাউল ইসলামের স্বজন শংকরপুরের বাসিন্দা মো. মতিয়ার রহমান জানান, বাড়িসহ ২ শতক জমি বিক্রি করেছিলেন রেজাউল। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় সবুজ তাকে কম দামে জমি ক্রয় করে দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। মূলত এই টাকা হজম করার জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ২২ মার্চ রাতে ডেকে নিয়ে রেজাউলকে হত্যা করেছেন সবুজ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন আটক সবুজ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই চঞ্চল কুমার বিশ্বাস জানান, রেজাউল নিখোঁজের ঘটনায় তার স্ত্রী মমতাজ বেগম অপহরণের অভিযোগে গত ২৬ মার্চ কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। সবুজ ও রিপনকে আসামি করে তিনি মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২৬ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে সবুজকে এবং যশোর শহর থেকে রিপনকে আটক করা হয়। আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউলকে হত্যার কথা স্বীকার করেন সবুজ। এ ঘটনার সাথে রিপন জড়িত বলে সবুজ দাবি করেছেন।

সবুজের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২২ মার্চ রাতে রেজাউলকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসেন। এরপর নিজ ভাড়া বাড়িতে বিষ মিশ্রিত খাবার খাইয়ে রেজাউলকে হত্যা করেন। পরে তার লাশ গোপন করতে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে পোটলা তৈরি করেন। যাতে মনে হয়, সেটি কাপড়ের পোটলা। পরে একটি রিকশায় করে রেজাউলের লাশের পোটলা শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল নিয়ে যান। সেখানে অপেক্ষমাণ একটি বাসের ছাদে উঠানোর পর ফের নামিয়ে নেন রেজাউলের লাশের পোটলা। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে লাশের পোটলা আশাশুনি উপজেলার লাঙলা দক্ষিণ একসরা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। এরপর শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি বাগানে রেজাউলের লাশ পুঁতে রাখেন। পরবর্তীতে সবুজ স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় পালিয়ে যান এবং সেখানে আত্মগোপন করে ছিলেন।

এস.আই চঞ্চল কুমার বিশ্বাস জানান, কয়েকদিন পর লাশ পুঁতে রাখার বিষয়টি জানতে পারেন সবুজের শ্বশুর খোকন মোল্লা। পরে তিনি সেখান থেকে লাশটি উত্তোলন করে পাশের আরেকটি বাগানে পুঁতে রাখেন। এ কারণে লাশ উত্তোলনের সময় সবুজের শ্বশুর খোকন মোল্লাকেও আটক করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, নিহত রেজাউলের শংকরপুর ইসহাক সড়ক দুলালের মোড়ে একটি টেইলার্সের দোকান। তার পাশেই সবুজের মনোহরির দোকান ছিলো।

কোতয়ালি থানার ওসি মো. আবুল হাসনাত খান জানান, তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন সবুজ একজন জলদস্যূ ছিলেন। রেজাউলকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তারা তাকে আটক করেন। পরে তার স্বীকারোক্তিতে আশাশুনি থেকে নিহত রেজাউলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।