যশোরে সাদি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ, অধরা চিহ্নিত ২ খুনি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ১৯ দিন পার হয়ে গেলেও যশোর শহরের মুজিব সড়ক রেলগেট মসজিদ পাড়ায় আলোচিত মীর সাদি হত্যায় অভিযুক্ত কুখ্যাত সন্ত্রাসী ট্যাটু সুমন ও মেহেদীকে আটক করতে পারনি পুলিশ। অথচ ওই সন্ত্রাসীরা যশোর শহরেই রয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। ঈদের পরদিন রাতে শহরের ষষ্ঠীতলায় বোমাবাজি ও গুলিবর্ষণ ঘটনায় তাদের উপস্থিতি ছিল বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে পুলিশ বলছে, তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। শুধু তাই নয়, নানা কারণ চাউর থাকলেও আসলে কী জন্যে মীর সাদি হত্যার শিকার হয়েছেন সেই রহস্য এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

মুজিব সড়ক রেলগেট মসজিদ পাড়ার মীর শওকত আলীর ছেলে মীর সামির সাকিব সাদি ওরফে মীর সাদি (৩৫) ছিলেন ষষ্ঠীতলার আলোচিত ম্যানসেলের অত্যন্ত কাছের লোক। আর এ কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে হায়দার গনি খান পলাশ পৌর মেয়র থাকাকালীন রেলবাজারের খাজনা আদায়ের ইজারাদারও হতে পেরেছিলেন তিনি। হত্যার আগ পর্যন্ত তিনি রেলবাজারের ইজারাদার ছিলেন।

ম্যানসেল পালিত সন্ত্রাসীদেরও তিনি ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু নানা কারণে বনিবনা না হওয়ায় ২০২৪ সালের প্রথম দিকে ম্যানসেলের সঙ্গ ত্যাগ করেন সাদি। তবে ম্যানসেল তার কাছে বিপুল অঙ্কের টাকা পাবেন। হত্যাকাণ্ডের আগে ম্যানসেলকে তিনি ওই টাকার মধ্য থেকে কিছু টাকা পরিশোধও করেছেন।

সঙ্গ ত্যাগ করলেও অন্য কোনো বিষয় নিয়ে ম্যানসেলের সাথে মীর সাদির বিরোধ ছিলো না বলে স্বজনদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। অবশ্য মীর সাদির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ হত্যায় অভিযুক্ত ট্যাটু সুমন ও মেহেদী মাঝে মধ্যে মীর সাদির কাছে টাকা চাইতেন।

তবে অনেকে মনে করছেন, মীর সাদির হত্যার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে স্বজনদের কেউ না কেউ জানেন। কিন্তু এ নিয়ে তারা বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাচ্ছেন না। সূত্রের দাবি, হত্যায় অভিযুক্ত ট্যাটু সুমন ও মেহেদীকে আটকের বিষয়ে পুলিশ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সেও অবিবাহিত মীর সাদি কার কার সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলতেন এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার। এ বিষয়ে গুরুত্ব দিলে হয়তো হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হতে পারে।

এদিকে মীর সাদি হত্যায় অভিযুক্ত ট্যাটু সুমন ও মেহেদীকে পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না বলে দাবি করলেও তারা যশোর শহরে তাদের এলাকায় রয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঈদের পরদিন রাতে ষষ্ঠীতলা সুরেন্দ্রনাথ রোডে (কাঁচা বাজার রোডে) দুই দল সন্ত্রাসীর মধ্যে বোমাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে সন্ত্রাসী ট্যাটু সুমন ও মেহেদীকে দেখা গেছে। ট্যাটু সুমন বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার মৃত কানা বাবুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৪টি মামলা রয়েছে। অপরদিকে মেহেদী শংকরপুর আশ্রম রোডস্থ মহিলা মাদ্রাসার পেছন এলাকার আলী মিয়া ওরফে আলী হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধেও হত্যাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনসপেক্টর মমিনুল হক জানান, অভিযুক্ত ট্যাটু সুমন ও মেহেদীকে আটকের জন্য তারাসহ ডিবি পুলিশও কাজ করছে। কিন্তু তাদের এখনো খুঁজে পাননি। ঈদের পরদিন রাতে বোমাবাজির ঘটনায় ওই দুই সন্ত্রাসীর উপস্থিতি ছিলো কিনা তাও তিনি জানেন না। ঘটনার পরপরই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। কোতয়ালি থানার ওসিও গিয়েছিলেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো তথ্য পাননি। এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, কী কারণে মীর সাদিকে হত্যা করা হয়েছে সেই রহস্য তারা এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেননি।

উল্লেখ্য, গত ১৭ মার্চ রাতে বাড়ির ভেতর ঢুকে মীর সাদিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন মেহেদী ও ট্যাটু সুমন। এ ঘটনায় নিহতের মা কামরুন্নাহার বেগম উল্লিখিত দুই জনের নাম উল্লেখ করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন।