গণপরিবহনে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে চালু হলো ‘হেল্প’ অ্যাপ

0

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ গণপরিবহনে নারীদের যৌন হয়রানিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ‘HELP’ (হ্যারাসমেন্ট এলিমিনেশন লিটারেসি প্রোগ্রাম) নামে একটি অ্যাপ চালু হয়েছে। ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) ও সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই অ্যাপ তৈরি করেছে।

শনিবার (১৫ মার্চ) ঢাকায় দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে অ্যাপটি উদ্বোধন হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড ও আর্টিকেল নাইনটিনের সহায়তায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

চলন্ত বাস বা গণপরিবহনে হয়রানির শিকার হলে HELP অ্যাপে রিপোর্ট করা যাবে। প্রাথমিকভাবে এটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকার বসিলা থেকে সায়েদাবাদ রুটে বাস্তবায়ন করা হবে।

অ্যাপে রিপোর্ট করলে তা ভলান্টিয়ারদের কাছে তথ্য পৌঁছে যাবে। ভুক্তভোগী নিকটস্থ থানার ডিউটি অফিসারের কাছে সরাসরি কল করতে পারবেন। ৯৯৯ ইমার্জেন্সি সার্ভিসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে অ্যাপটি। অ্যাপের মাধ্যমে রিপোর্টগুলো সংরক্ষণ করা হবে, যা পরে আইনি সহায়তার জন্য কাজে লাগবে। নিজের পরিচয় গোপন রেখেও এই অ্যাপে রিপোর্ট করার সুযোগ থাকবে।

অ্যাপটিতে ‘এলার্ট’ অপশন থাকবে, যা চাপ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ভলান্টিয়ারদের কাছে ভুক্তভোগীর ‘রিয়েল টাইম লোকেশন’ পৌঁছে যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, হয়রানির শিকার হওয়ার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক ও পারিবারিক কারণে বিষয়গুলো সামনে আনতে চান না। গৃহকর্মীদের ওপরও নানা ধরনের নির্যাতন চলে, কিন্তু ৯৫ শতাংশ ঘটনাই রিপোর্ট হয় না। এই অ্যাপ যদি থানায় রিপোর্ট পাঠাতে পারে, তবে তা ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) হিসেবে গণ্য হতে পারে। পুলিশ চাইলে বাদী হয়ে মামলা করতে পারবে এবং তদন্ত শুরু করতে পারবে।

এই অ্যাপকে কার্যকর করতে প্রয়োজনে ডিএমপি সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি। সাজ্জাত আলী বলেন, ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলো প্রচারের ক্ষেত্রে মিডিয়াকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। তিনি বলেন, যেসব খবর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে, সেগুলো বারবার প্রচার না করাই ভালো।

বিশেষ অতিথি মহিলা পরিষদের সভাপতি ফৌজিয়া মোসলেম বলেন, লিঙ্গবৈষম্য ও নারীর প্রতি হয়রানির ঘটনাগুলো তুলে ধরা এবং সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি। অধিকার কর্মীদের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও এই কাজটি করছেন, যা প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, ধর্ষণ, সহিংসতা বন্ধ করতে হলে কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে তা সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। মহিলা পরিষদও এর সঙ্গে থাকার চেষ্টা করবে।

তিনি আরও বলেন, একজন নারী ধর্ষণ হলে পুরো সমাজই ধর্ষিত হয়। HELP প্রকল্পের আওতায় মোহাম্মদপুর থেকে সায়েদাবাদ রুটে চলাচলকারী বাসে QR কোড বসানো হবে, যাতে নারীরা দ্রুত সহায়তা নিতে পারেন। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হবে, যারা ইমার্জেন্সি সেবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন। একে কার্যকর করতে পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজেসির চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক এবং সঞ্চালনা করেন বিজেসির নির্বাহী শাহনাজ শারমীন।