রোজার শুরুতেই জমজমাট যশোরের ইফতার বাজার

0

আকরামুজ্জামান ॥ রোজার প্রথম দিন থেকে জমজমাট যশোরের ইফতার বাজার। বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরার পাশাপাশি শহরের মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী ইফতারির দোকান। এ সব দোকানে ছোলা, পিঁয়াজু, চপ, বেগুনির পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কাবাব, জিলাপী, ফিরনি ও অন্যান্য মিষ্টন্ন। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ইফতার সামগ্রীর দাম গত বছরের মতই আছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারেও যশোরে ইফতারের দাম বাড়ানো হয়নি।

দুপুরের পর থেকে যশোরের ইফতার বাজারের প্রস্তুতি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। বিকেল থেকে ক্রেতা বাড়তে শুরু করে । জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা ভিড় করেন রোজার বাহারি ইফতার সামগ্রী কিনতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর শহরের প্রতিটি খাবার হোটেলের সামনে রোজার প্রথম দিনে সারি সারি ইফতার সামগ্রীর দোকান বসানো হয়। দোকানের সামনে টেবিলের উপর সাজিয়ে রাখা হয়। দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে- সুতি কাবাব, জালি কাবাব, মুঠি জালি কাবাব, শাহী জিলাপি, ডিম চপ, দই, বড়া, হালিম, ছোলা, পিঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, ফালুদাসহ নানা ধরনের খাবার।

শহরের মুজিব সড়ক এলাকার ক্যাফে প্রেসক্লাব, দড়াটানা মোড়ের ভৈরব হোটেল, নিউ ভৈরব হোটেল, মাইকপট্টি এলাকার নিউ নুরু, ক্যাফে নুরু, পাঁচফোড়ন, ডাকুয়া হোটেল, মদিনা হোটেলসহ বিভিন্ন খাবার হোটেলের সামনে ইফতারের দোকানে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

মুজিব সড়কের ক্যাফে প্রেসক্লাবের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, এ বছর ইফতার সামগ্রীর দাম গত বছরের তুলনায় খুব একটা পার্থক্য নেই। বরং কিছু কিছু আইটেমের দাম কম।

তিনি বলেন, রেশমি ও শাহী জিলাপি প্রতি পিস ৭ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। গত বছরও একই দামে বিক্রি হয়। এছাড়া জালি কাবাব প্রতি পিস ১৫ টাকা, মাটন কাটলেট ৩০ টাকা, চিংড়ির চপ ২০ টাকা, চিকেন ফ্রাই ৫০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৫০ টাকা, শাহী হালিম প্রতি বাটি ৬০ টাকা, ফিরনি প্রতি কাপ ২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরে ১শ গ্রাম ছোলা ২০ টাকা, প্রতিপিস পেয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, রসুনের চপ, সবজি পাকোড়া ৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

ওই দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি তাইজুল ইসলাম বলেন, প্রথম রোজাতেই ক্রেতাদের চাপ বেশি ছিল। বিক্রিও হয়েছে বেশি। মানুষ দরদাম যাচাই না করেই ইফতার সামগ্রী কিনে নিয়ে যাচ্ছে। আমরাও বিক্রি করে খুশি।

একই অবস্থা ছিলো শহরের অন্যান্য হোটেল গুলোর সামনে। ইফতারের আগ মূহুর্তে দোকানদারদের দম ফেলার সময় ছিলোনা। ক্রেতারাও দ্রুত ইফতার কিনে যে যার মতো বাড়ি ফেরার তাড়া করতে থাকেন। নিউ নুরু হোটেলের সামনে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সাথে। তারা বলেন, এবার রোজায় বিদেশী ফলের দাম বেশি হওয়ায় মানুষ একটু অস্বস্তিতে আছেন। তবে তৈরি ইফতার সামগ্রীর দাম আগের বছরের মতোই আছে ।
ওই হোটেলের বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, আমাদের হালিম এখানকার বিখ্যাত। প্রথম দিনেই অনেক মানুষ এসেছেন। বেচাকেনাও মোটামুটি ভালো চলছে। ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে তিনি জানান।

শহরের বেজপাড়া থেকে ইফতার কিনতে এসেছেন তানভির হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমার পরিবারে মা-বাবা ও ভাই-বোনসহ সবাই এখানকার খাবার পছন্দ করেন। যে কারণে পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করার জন্য এখান থেকে ইফতার কিনে নিয়ে যাচ্ছি। দাম কেমন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, দাম-দর যাচাই করার সময় নেই দ্রুত বাড়ি ফিরতে হবে।

একই দোকানে কথা হয় রফিকুল ইসলাম নামে আরেক রোজাদারের সাথে। তিনি বলেন, ইফতারের অধিকাংশ আইটেম আগের বছরের দামে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এ বছর অনেক পণ্যের দাম কম। যেমন আলু, পেঁয়াজ, শসা, চিনি। সুতরাং এসব পণ্যের তৈরি ইফতারের দাম কম হওয়া উচিৎ। তারপরও কিছু করার নেই, কিনতে তো হবেই।

ব্যবসায়ীরা বলেন, এবার আমদানি নির্ভর ফলের দাম একটু বেশি। তবে ইফতারের জন্য সবচেয়ে পছন্দের পণ্য খেজুরের দাম গতবারের চেয়ে অনেক কম বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে যশোর জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এএইচ এম সাইদুল ইসলাম লিটন বলেন, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ বছর ফলের দাম বেড়েছে। তবে এনবিআরের পক্ষ থেকে ফলের ওপর শুল্কহার কমানোর যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটি বাস্তবায়ন হলে দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।