ক্ষোভ থেকে জাহাজের মাস্টারকে, তথ্য ফাঁসের ভয়ে আরও ৬ জনকে হত্যা করে ইরফান : র‌্যাব

0

লোকসমাজ ডেস্ক ।। চাঁদপুরের হাইমচরের মাঝিরচর এলাকায় এমভি আল বাখেরা জাহাজের মাস্টারের ওপর ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যা করে গ্রেফতার আকাশ মন্ডল ইরফান। পরে জাহাজে থাকা অন্য সদস্যরা বিষয়টি ফাঁস করে দিতে পারেন, এই আতঙ্কে বাকি সাতজনকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে ইরফান। এর মধ্যে মাস্টারসহ সাতজনের মৃত্যু হলেও প্রাণে বেঁচে যান জাহাজের সুকানি জুয়েল।

গ্রেফতার ইরফানকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বুধবার কুমিল্লায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব-১১।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা, র‌্যাব-১১ ও র‌্যাব-৬ যৌথ অভিযান চালিয়ে বাগেরহাটের চিতলমারি থেকে ইরফানকে গ্রেফতার করে। সে বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকার জগদীশ মণ্ডলের ছেলে। ইরফান জাহাজটিতে প্রায় ৮ মাস ধরে কর্মরত ছিল। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি হ্যান্ড গ্লাভস, একটি ব্যাগ, ঘুমের ওষুধের খালি পাতা, নিহত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত পাঁচটি ও তার নিজের ব্যবহৃত দুটিসহ মোট সাতটি মুঠোফোন এবং বিভিন্ন জায়গায় রক্ত মাখানো নীল রঙের একটি জিনস প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় ওই জিনস প্যান্ট পরিহিত ছিল ইরফান।

সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বর্ণনা দেন র‌্যাব-১১- এর কর্মকর্তা

সংবাদ সম্মেলনে মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, এমভি আল-বাখেরা জাহাজ থেকে গত সোমবার বেলা ৩টার পরে পাঁচজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় জাহাজের মালিক মাহবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে চাঁদপুরের হাইমচর থানায় একটি মামলা করেন। তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় গতকাল রাতে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইরফান হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দেয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ইরফান র‌্যাবকে বলেছে, সে প্রায় আট মাস ধরে এই জাহাজে চাকরি করছে। জাহাজের কর্মচারীরা ছুটি ও বেতন-বোনাস সময়মতো পেতেন না। বিভিন্ন ধরনের বিল কর্মচারীদের না দিয়ে জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়া একাই ভোগ করতেন। এছাড়া জাহাজের মাস্টার কর্মচারীদের সঙ্গে রাগারাগি করতেন। কারও ওপর নাখোশ হলে তাকে জাহাজ থেকে নামিয়ে দিতেন। তাদের বকেয়া বেতনও দিতেন না। এসব নিয়ে সে মাস্টারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। সে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী ১৮ ডিসেম্বর ইরফান তিন পাতা ঘুমের ওষুধ কিনে নিজের কাছে রাখে। ২২ ডিসেম্বর সকাল আটটায় তারা মোট ৯ জন জাহাজে ৭২০ টন ইউরিয়া সার নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ওই রাতে খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে প্রথমে সে মাস্টারকে হত্যা করে। পরে একে একে অন্যদের কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সব জাহাজ তাদের গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেলে ইরফান নিজে জাহাজ চালাতে থাকে। জাহাজটি একপর্যায়ে ইশানবালা খালের মুখে মাঝিরচরে আটকা পড়ে। জাহাজটি নোঙর করে পাশ দিয়ে যাওয়া ট্রলারে বাজার করার কথা বলে উঠে পালিয়ে যায় সে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলা হয়, তাকে হাইমচর থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। [সূত্র : জাতীয় একাধিক গণমাধ্যমের অনলাইন]