যশোরে আ.লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বৈধ-অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে যশোরে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা প্রায়ই বৈধ ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে । প্রশাসনের উপস্থিতিতে এসব অস্ত্রের মহড়া হলেও রাষ্ট্রব্যবস্থার ত্রুটির কারণে গত ১৬ বছরে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ প্রশাসন।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সেই সব সন্ত্রাসী। তাই এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার ও তাদের কাছে থাকা বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জোর দাবি উঠছে।
যশোর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যশোরে মোট লাইসেন্সকৃত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ১৩৮। এরমধ্যে রিভলবার রয়েছে ১০টি, পিস্তল ৩০টি, শটগান ৯৮টি, রাইফেল ৩২টি, একনলা বন্দুক ১৮৮টি ও দোনালা বন্দুক ১৬৮টি। এসব নবায়নকৃত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে সেনাবাহিনীর ২৩৩টি অস্ত্র রয়েছে। বাকিগুলোর মধ্যে কিছু পুলিশের আর সব বেসরকারি ব্যক্তিদের নামে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে বেসরকারি ব্যক্তি পর্যায়ে যে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে তার বড় একটি অংশ রয়েছে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকার দলীয় লোকজনদের নামে। গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলের লাইসেন্সপ্রাপ্ত হয়েছে অনেকেই। অনেকটা যাচাই-বাছাই ছাড়া এসব অস্ত্র নবায়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব বৈধ অস্ত্র নিয়েই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এখন আত্মগোপনে রয়েছে। ফলে এসব অস্ত্রের অপব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে সব মহলে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। এজন্য বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা বৈধ-অবৈধ সব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের ক্যাডার-সন্ত্রাসীদের হাতে বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের যে ভান্ডার গড়ে উঠেছে সেগুলো দিয়ে তারা এখন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, গত ১৬ বছরে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কারা অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছে সেটি অস্পষ্ট। এজন্য এখন জরুরি হয়ে পড়েছে এসব অস্ত্রের লাইসেন্স ও অস্ত্র জমা নেওয়া। কারণ ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের সময় সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনরা যে অস্ত্র ব্যবহার করেছে তার মধ্যে অনেক বৈধ অস্ত্র ছিলো। তাছাড়া গত ১৬ বছরে আমরা ক্ষমতাসীন দলের লোকজনদের কাছে বিভিন্ন সময় যে অবৈধ অস্ত্র দেখেছি সেসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আমরা জেলা পুলিশের কর্মকর্তার সাথে দেখা করে আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, গত ১১ আগস্ট যশোর জেলা বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে। সেখানে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবরাউল হাছান মজুমদার বলেন, বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা না আসলে আমরা এটি করতে পারি না। তবে খুব দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসাইন বলেন, খুব দ্রুত সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সন্ত্রাসীরা আপাতত পালিয়ে যাওয়ায় তাদের অবস্থান নির্ণয়ে সার্বক্ষণিক পুলিশ কাজ করছে বলে জানান তিনি।