১৫ বছরে অঢেল সম্পদ অর্জন করেছেন এমপি রণজিৎ ও স্ত্রী নিয়তি রায়

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ১৫ বছরে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন যশোর-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায় ও তার স্ত্রী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তার দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রণজিৎ রায় ও তার স্ত্রী নিয়তি রায়ের সম্পদ আগের চেয়ে বেড়েছে কয়েক গুণ। তবে টানা তিনবারের এই সংসদ সদস্যের ছেলে রাজিব রায়ের কোনো সম্পদের হিসেব হলফনামায় উল্লেখ না থাকায় তার মূল সম্পদের হিসেব অধরাই থেকে গেছে।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর উপজেলা ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়। তিনি ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। তিনবারের এ সংসদ সদস্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে তার স্ত্রী নিয়তি রানীর সম্পদও। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা ২০০৮ ও ২০২৩ সালের হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
হলফনামায় দেখা যায়, এমপি রণজিতের বর্তমান বার্ষিক আয় ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৩ টাকা। যা ২০০৮ সালে ছিল এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী তার স্ত্রীর বর্তমানে কোনো আয় নেই। আগেও ছিল না। ২০০৮ সালের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, রণজিৎ কুমার রায়ের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের হলফনামায় তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছয় কোটি ৯৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৮ টাকা। ২০০৮ সালের হলফনামায় তার স্ত্রীর নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ছিল ৮৫ হাজার টাকা। যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৯৮ টাকা।
২০০৮ সালে এমপি রণজিত কুমার রায়ের নামে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ ছিল। অস্থাবর সম্পদ বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৯৭ লাখ তিন হাজার ৮৬৮ টাকায়। ২০০৮ সালে স্ত্রীর নামে ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ ছিল। যা বর্তমানে এক কোটি ২২ লাখ তিন হাজার ২৯৮ টাকা। ২০০৮ সালে এমপি রণজিতের নামে দেড় লাখ মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ছিল। ১৫ বছরের ব্যবধানে তার স্থাবর সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৫৭ হাজার টাকা। ২০০৮ সালে তার স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকলেও বর্তমানে এক কোটি ৫১ লাখ ৭২ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
হলফনামা অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, তিনি ২০০৮ সালে ৪ বিঘা কৃষিজমি পৈত্রিক সূত্রে পেলেও বর্তমানে ১২ বিঘা জমির মালিক। স্ত্রীর নামে ২০০৮ সালে কোনো জমি বা বাড়ি না থাকলেও বর্তমানে ৩টি বাড়ি রয়েছে। যার মূল্য হলফনামার তথ্য অনুযায়ী এক কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা। একইসঙ্গে বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে ৫০ লাখ টাকার উল্লেখ করেছেন তিনি। ২০০৮ সালে তার কাছে এক লাখ টাকা নগদ থাকলেও বর্তমানে এক কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। ২০০৮ সালে এমপির স্ত্রীর কাছে ৭০ হাজার টাকা নগদ ছিল। বর্তমানে ৫১ লাখ ১৬ হাজার ৮৪০ টাকা রয়েছে। আগে ব্যাংকিং সঞ্চয় ডিপিএস হিসেবে কোনো টাকা না থাকলেও বর্তমানে এমপি রণজিৎ রায় দম্পতির ২৭ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯২ টাকা আছে। তার কোনো দায়দেনা নেই। তবে হলফনামায় এমপি রণজিত তার সন্তানদের তথ্য উল্লেখ করেন নি। অথচ অভিযোগ রয়েছে এমপি রণজিৎ রায় টানা ১৫ বছর এমপি থাকাকালীন তার ছেলে রাজিব রায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।